অতিরিক্ত মিষ্টি থেকে সাবধান

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
‘ইউ আর সো সুইট’- শুনতে যতই ভালো লাগুক, বেশি মিষ্টি খাওয়া মোটেই ভালো না। কারণ মিষ্টি বা চিনির প্রতি আকর্ষণ কেবল ওজনই বাড়ায় না, পাশাপাশি হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও যৌন স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে।

খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় চিনি শরীরে প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত মিষ্টি বা শর্করা গ্রহণের ফলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

হৃদপিণ্ড:
চিনি গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে রক্তে মিশে যায় এবং রক্তের অতিরিক্ত শর্করা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন- হৃদপিণ্ডের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

২০১৩ সালে ‘দ্যা জার্নাল অব দ্যা আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েসন’য়ে প্রকাশিত এক গবেষোণা থেকে জানা যায় যে, অতিরিক্ত চিনি অর্থাৎ শর্করা বিশেষত, গ্লুকোজ হৃদপিণ্ডের উপর কুপ্রভাব ফেলে এবং এর পেশির কার্যকারিতা কমায়।

এমনটা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তা হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক’য়ের একটি প্রতিবেদন।

নারী-স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘উইমেন্স হেলথ’য়ের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় কৃত্রিম মিষ্টি দেওয়া খাবারে ভিন্নধর্মী চিনি ও অধিক পরিমাণে ফ্রুক্টোজ পাওয়া যায় যা রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে। এটা ‘ট্রাইগ্লিসারাইডস’ নামক এক ধরনের চর্বি উৎপাদন করে যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের জন্য দায়ী।

মস্তিষ্ক:
অতিরিক্ত চিনি মস্তিষ্কের জন্য যে ভয়ঙ্কর হতে পারে তা ২০০২ সালে করা লস অ্যাঞ্জেলস’য়ের ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালফোর্নিয়া’র এক গবেষণা থেকে জানা যায়।

অতিরিক্ত চিনি নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টরের সঙ্গে জড়িত যা মানুষের স্নায়ু সংক্রান্ত ও আচরণগত বিষয় (বিডিএনএফ)য়ের উপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়।

এছাড়াও অন্য গবেষণায় দেখা গেছে, এই রাসায়নিক উপাদান বিষণ্নতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বৃক্ক:
কিডনি বা বৃক্ক রক্ত পরিশোধনের কাজ করে। অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি কিডনির কাজ বাড়িয়ে দেয়। পরে তা ক্ষতি করে।

রক্তে শর্করা বাড়া টাইপ টু ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী। অনেকদিন ধরে অতিরিক্ত চিনি পরিস্রাবণ বা ছাঁকার কাজ করতে থাকলে বৃক্কের কার্যকারিতা হ্রাস পেতে থাকে এবং দেহের বর্জ্য অপসারণে বাধা তৈরি করে।

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েসন’য়ের মতে, বৃক্কের কার্যকারিতা হ্রাসই বৃক্কের রোগ। এটা চিকিৎসা করা না হলে বৃক্ক পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায়। তখন কিডনি বা বৃক্ক পুনঃস্থাপন করার প্রয়োজন পড়ে কিংবা যন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত পরিশোধন করতে হয়; যাকে বলে ডায়ালিসিস।

যৌন স্বাস্থ্য:
খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি থাকলে রক্ত প্রবাহে প্রভাব ফেলে। আর অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে পুরুষের লিঙ্গোত্থানেও সমস্যা হতে পারে।

২০০৫ সালে ‘দ্যা জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন’য়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে নির্দিষ্ট পরিমাণ চিনি পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য ও লিঙ্গোত্থানের জন্য প্রয়োজন।

তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘নিউজ মেডিকেল’য়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় রক্তের শর্করা ডায়াবেটিসের মাত্রা বৃদ্ধি করে যা লিঙ্গোত্থানের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি হওয়াতে বাধা দেয়।

২০০৭ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ মানুষের যৌন স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন টেস্টোস্টেরন ও এস্ট্রোজেনের মাত্রা হ্রাস করে।

যকৃৎ:
অতিরিক্ত চিনি খাওয়া হলে তা যকৃতে চর্বির সৃষ্টি করে। ফলে যকৃতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। যদি ঠিকঠাক চিকিৎসা করা না হয় তাহলে এটা অ্যালকোহল পানের মতোই ক্ষতিকর।

ফলে যকৃতের কোষে ক্ষত তৈরি হয় যা ‘সিরোসিস’ নামে পরিচিত।

দি ডেইলি মেইল’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লন্ডন ভিত্তিক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ‘অ্যাকাডেমি অফ মেডিকল রয়াল কলেজেস’য়ের স্থূলতাবিষয়ক দলের সদস্য ডা. আসিম মালহোত্রা বলেন, ‘‘লিভার সিরোসিস’ দেখা দেওয়ার প্রধান কারণ অ্যালকোহল। আর বাজে খাদ্যাভ্যাসের কারণে যকৃতে চর্বি জমে, যাকে বলে ‘ফ্যাটি লিভার’ রোগ।”