মানিকগঞ্জে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’, ২ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্কঃ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

সোমবার ওই তরুণী বাদী হয়ে মামলা করেছেন বলে জানান মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) রিফাত রহমান।

আসামিরা হলেন সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেন এবং এএসআই মাজহারুল ইসলাম।

মামলার বাদী তরুণীর বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বাবার সঙ্গে ঢাকার অদূরে আশুলিয়া এলাকায় থাকেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঢাকার আশুলিয়া থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় এসআই সেকেন্দার হোসেনের সঙ্গে আশুলিয়ার এক নারীর পরিচয় হয়। ওই নারীর প্রতিবেশী এই তরুণী।

এই পরিচয়ের সূত্র ধরে পাঁচ-ছয় বছর আগে জমি ব্যবসার জন্য ওই নারী সেকেন্দারকে এক লাখ টাকা দেন। পরে জমি বিক্রি করে তার অংশের লভ্যাংশসহ তিনি সেকেন্দারের কাছে তিন লাখ টাকা পাওনা হন। তবে দীর্ঘ দিনেও তার সব টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এ কারণে ওই টাকার জন্য তিনি মাঝেমধ্যে সাটুরিয়া থানায় সেকেন্দারের কাছে যেতেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ওই তরুণী বলেন, গত বুধবার বিকালে তিনি পরিচিত ওই নারীর সঙ্গে নিয়ে সাটুরিয়া থানায় যান। থানায় যাওয়ার পর সেকেন্দার তাদেরকে থানার পাশে জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে বসে পাওনা টাকার বিষয়ে কথাবর্তা বলার সময় এএসআই মাজহারুল সেখানে উপস্থিত হন। এরপর ওই নারীকে কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

“এর পর তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ওই কর্মকর্তারা ইয়াবা সেবন করেন। এ সময় তাকেও ইয়াবা সেবনে বাধ্য করা হয়। ইয়াবা সেবনের পর তিনি অসুস্থবোধ করেন। এর পর থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ওই কক্ষে আটকে রেখে ওই দুই কর্মকর্তা তাকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করেন।”

এসপি রিফাত রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাতে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এরপর রোববার ওই তরুণী তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

এসপি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনা তদন্তে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

“তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হাফিজুর রহমান এবং জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দিকী।”

হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত করা হয়। তদন্তে ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ দিকে সোমবার রাতেই ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) লুৎফর রহমান।

তিনি বলেন, তিনিসহ চার সদস্যবিশিষ্ট একটি চিকিৎসক দল ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা করেন। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সোমবার রাতে ওই তরুণী বাদী হয়ে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।