বাদল ফরাজীর বিষয়ে হাইকোর্টের রুল

অনলাইন ডেস্কঃ
হত্যা মামলায় ১০ বছর কারাভোগের পর বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীনে দেশে ফেরত আনা বাদল ফরাজীর বিষয়ে এবার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রুলে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বাদল ফরাজীকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি মর্মে হাইকোর্টের সন্তষ্টির জন্য কেন তাকে আদালতে হাজির করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রুল জারি করেন।

এর আগে গত বছরের ১১ জুলাই বাদল ফরাজীর মুক্তির বিষয়ে করা পৃথক এক রিট আবেদন পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করেছিলেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ। সে সময় বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকার যেহেতু উদ্যোগী হয়ে বাদল ফরাজীকে ভারত থেকে দেশে ফেরত এনেছে, সেহেতু সরকারই হয়তো তার মুক্তির পদক্ষেপ নেবে। এ পর্যায়ে আদালতের নির্দেশনা দেওয়া ঠিক হবে না।

তবে এরপর গত সাত মাসেও বাদল ফরাজীর মুক্তি মেলেনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদল ফরাজীকে কারাগারে আটক রাখার বৈধতা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করা হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, আইজি প্রিজন, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষসহ বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আসকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুল আলম।

গত ৭ জুলাই ভারত থেকে বাদল ফরাজীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। সেখানে একটি খুনের মামলায় তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ১০ বছর ধরে কারাভোগ করছিলেন। দেশে ফেরার পর তাকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। এ নিয়ে পরদিন সমকালসহ দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তখন সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করলেও তা খারিজ করেছিলেন হাইকোর্ট।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তখন বলা হয়, তাজমহল দেখতে পর্যটক ভিসায় ভারতে যাচ্ছিলেন বাদল ফরাজী। বেনাপোল সীমান্ত পার হতেই বিএসএফ তাকে ‘বাদল সিং’ হিসেবে গ্রেফতার করে। বাদল সিং ২০০৮ সালের ৬ মে দিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধা খুনের মামলার আসামি। পরে বিচার শেষে বাদল ফরাজীকে ওই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ভারতীয় আদালত। এরপর থেকে তিনি ভারতের বিহার কারাগারে সাজাভোগ করছিলেন। এরই মধ্যে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদল ফরাজী দিল্লির কলোনির বৃদ্ধা হত্যাকাণ্ডের সোয়া দুই মাস পর ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই ভারতে ঢুকেছিলেন। বাগেরহাটের ছেলে বাদল গ্রেফতার হয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সে, এখন তার বয়স ২৯।