চকরিয়ায় চিকিৎসা সেবার নামে চরম নৈরাজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে চকরিয়ায় চলছে চিকিৎসা সেবার নামে চরম নৈরাজ্য। চিকিৎসকদের দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে প্রায়ই চকরিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ আসা রোগী মৃত্যুর দিকে দাবিত হচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে। এসব ঘটনায় কখনো রোগীর ক্ষুব্ধ স্বজনরা কাউকে বুঝাতে বা কোন সেবা না পেলেই ক্ষুব্ধ হয়ে হতাশার নিয়ে বাড়ী ফিরে যায় অথবা জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে রোগিদের নিয়ে যায়।

ডাক্টারদের অপারেশন ও প্রাইভেট বানিজ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোন কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা প্রাইভেট বানিজ্য।

অপরদিকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি এ হাসপাতালে নিন্মমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন খাবারের তালিকায় নির্দিষ্ট ওজনের মাছ, মাংস ও নাস্তা সরবরাহের কথা থাকলেও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেট রোগীদের প্রাপ্য এই খাবার থেকে বঞ্চিত করে বিশাল অংকের টাকা নিজেরা আত্মসাৎ করছে।

সব মিলিয়ে বলতে গেলে অল্প কিছুতেই চিকিৎসা সেবার মতো মানবিক বিষয়ের তোয়াক্কা না করে ডাক্তাররা নিজের ধান্দায় ব্যস্ত হয়ে বসে থাকেন দিনের পর দিন।

পরিস্থিতি এমন যে, চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা গরিব রোগীরা ডাক্তার-কর্মচারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। আর ওষুধ কালোবাজারে বিক্রি থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম দুর্নীতি তো আছেই।

হাসপাতাল ঘুরলেই রোগীদের অসংখ্য অভিযোগ শোনা যায়। বদরখালী থেকে আসা রোগী আবছার জানান, হাসপাতালে ৩ দিন ধরে কাতরাচ্ছেন। তিনি বলেন, তার কাছে ডাক্তার এসেছে মাত্র তিনবার। কেবল স্যালাইন আর ইনজেকশন দেয়া ছাড়া রোগীর আর কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এসব অভিযোগ কেবল তার একার নয়। তার মতো অনেক স্বজনের অভিযোগ ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে। তিনি ভাল চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হবে বলেও জানান।

রোগী এবং স্বজনদের অভিযোগের কারণে, অকারণে ডাক্তাররা রোগীদের হেয় প্রতিপন্ন ও মারধর করার অভিযোগ ও রয়েছে। বারবার বললেও দায়িত্বে অবহেলা করছেন ডাক্তার এবং নার্সরা।

হাসপাতালে রোগী দেখার চেয়ে ডাক্তাররা চেম্বারে রোগী দেখার প্রতিই বেশি মনোযোগী। চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের নার্স এবং ডাক্তাররা রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তিতে প্রলুব্ধ করছে। সব মিলিয়ে ভেঙে পড়েছে চকরিয়ায় সরকারি স্বাস্থ্য সেবার শৃঙ্খলা।

হারবাং থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আমিন জানান, তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে রাতদিন ওয়ার্ডে ডাক্তার তো দূরের কথা, কোনো নার্সও থাকছে না। তিনি আরো জানান, ওয়ার্ডে ডাক্তারের দেখা পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। নার্সরা থাকলেও তাদের কাছ থেকে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। রোগীর শরীরের স্যালাইন পুশ করতে নার্সদের ডাকলে তারা বলে রোগীকে মুখে তুলে খাওয়ান। কখনও কখনও বলেন, রোগীকে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। তিনি এ প্রতিবেদককে আরো বলেন, যে রোগী কোনো কথা বলতে পারে না, উঠে বসতে পারে না, এক কথায় প্রায় অচেতন, ওই রোগীকে কিভাবে মুখে তুলে খাওয়াব? কিভাবে নার্সের কাছে নিয়ে আসবো।

না আনলে নার্সরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে বলে জানান তিনি। বাধ্য হয়ে রোগীর গায়ে প্রায়ই নিজেদের ইনজেকশন পুশ করতে হচ্ছে। অনেক সময় রোগী ছটফট করতে থাকে। ওই সময় স্যালাইন ছিঁড়ে ফেলার উপক্রম হয়। এটা নার্সকে জানালেও ধমক খেতে হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে চকরিয়ায়। সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহাল পরিস্থিতি দেখে যারা বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের দিকে পা বাড়ান তারা শিকার হন আরো বেশি হয়রানির।

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে উন্নত সেবার নাম দিয়ে চলছে রমরমা বাণিজ্য। কারণে-অকারণে পরীক্ষা, ক্লিনিকে বেশি দিন রোগী ধরে রাখা ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত ক্লিনিকগুলো।

সচেতন মহলরা মনে করেন, হাসপাতালগুলোকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখা দরকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চিরিংগা শহরে ডাক্তার, রোগী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসন, মিডিয়াসহ সব জায়গা থেকেই হাসপাতালগুলো এক ধরনের নেতিবাচক আচরণের শিকার হচ্ছে। এর জন্যে অসচেতনতাই দায়ী। হাসপাতালগুলোকে সুরক্ষার দায়িত্ব সমাজের সর্বস্তরের মানুষকেই নিতে হবে। তবে সবার আগে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে সরকারকে।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ এর কর্মরর্ত টিউস্যু আবদু সালাম বলেন, হাসপাতালে ডাক্তাররা নিয়মিত রোগী দেখেন। অনিয়ম হচ্ছেনা। টিকমত রোগীদের খাদ্য সরবরাহ ও করে থাকেন বলে তিনি জানান।