খাঁটি বউয়ের সন্ধানে

সৌরভ শর্মাঃ
অনেক কষ্টে তারাবানুকে পটিয়েছিল মোজ্জামেল মিয়া।আজকে পার্ক তো কাল সী-বীচ এভাবে ভালই কাটছিল।যে মানুষ কারো কাছ থেকে ধার নিতো না, সে আজ গ্রামীণ ব্যাংকের গ্রাহক। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সেই তারাবানুই কয়েকমাস পরে অারেকটা ছেলের সাথে পালিয়ে গেলো।

সৌরভ শর্মা

তখন থেকেই এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলো মোজ্জামেল ,আর কোনদিন কোন মেয়েকে সে প্রপোজ করবে না।সবসময় মানবসেবা করবে। তার মানবপ্রেমী মন দেখে যে তাকে প্রপোজ করবে তাকেই সে তার রাণী বানাবে। শুরু হলো মোজ্জামেল মিয়ার মানবসেবা।যেখানে অসুস্হ, অনাহারী সেখানেই সে।

জীবনের দুই তৃতীয়াংশ বয়স এভাবে পার করিয়ে দিয়েও মেলেনি তার কাঙ্খিত রাণীর দেখা।মানুষের সেবা করতে গিয়ে সে প্রেমিকার বদলে হাজার হাজার বোন পেয়েছে।মমতাময়ী মা পেয়েছে।

মানবসেবা করতে করতে তার বয়স এখন ৪৬। বাজারে হঠাৎ পুরোনো বন্ধু জয়নালের সাথে দেখা-
কি খবর আমার ব্যাচেলর বন্ধু?
ভালো না রে জনু।সময়ের কাজ সময়ে না করলে কি যে বিপদ তা হাড়ে হাড়ে ঠের পাচ্ছি। চিন্তা করছি বিয়েটা এবার সেরেই ফেলব।তোর পরিচিত কোন মেয়ে আছে?
আছে একজন।তবে সে আরেকজনের তালাকপ্রাপ্ত। দুইটা ছেলেও আছে। বয়স ৩৫ এর কাছাকাছি।
আরে কোন ব্যাপার না।

মোজ্জামেল মিয়ার জীবনের প্রথম মেয়ে দেখা। অধীর আগ্রহে বসে আছে মেয়ে দেখার জন্য। অবশেষে এক লম্বা ঘোমটা দিয়ে এলো তার স্বপ্নের রাজকন্যা
ঘোমটা তুলতেই বেহুঁশ মোজ্জামেল।
মেয়েটি তার প্রথম প্রেম তারাবানু।।

সৌরভ শর্মা, রামু।