রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাবার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দেশটিতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দুদিনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আগামী শুক্র ও শনিবার ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন প্রটেকশন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি ইন বার্মা’ শিরোনামে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ‘ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন’ (এফআরসি) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে দুই বছর আগে পালিয়ে আসা আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে রয়েছে। মিয়ানমার প্রশাসন কর্তৃক এমন বর্বরতার ঘটনাবলির তথ্য সংগ্রহকারি, সরেজমিনে তদন্তকারি জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ৩৫ জন কর্মকর্তা বক্তব্য দেবেন এ সম্মেলনে।

সম্মেলন বক্তার তালিকায় রয়েছেন- মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ইয়াংঘি লি, অস্ট্রেলিয়ার আদালতে অং সান সু কির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার মামলা দায়েরকারি ডেনিয়েল টেইলর, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর রেজ্যুলেশনের বিশ্লেষণকারি লেখক অধ্যাপক রাধিকা কুমারাস্বামী, জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক গ্রেগরি স্ট্যানটন এবং ভারতীয় সাংবাদিক তপন কুমার বোস।

আয়োজক সংগঠনের সমন্বয়ক ও ‘কমান্ডার কর্তৃক ধর্ষণ’ বইয়ের লেখক রাজিয়া সুলতানা এ সম্মেলন প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা রোহিঙ্গারা ক্রমান্বয়ে পাঠ্যপুস্তকে গণহত্যার সামিল হয়ে পড়েছি, যা শুরু হয়েছে আমার শৈশব থেকেই।”

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে সর্বসম্মতভাবে একটি রেজ্যুলেশন হয়েছে, যেখানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই রেজ্যুলেশনে রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াউ সো ওর মুক্তির দাবি জানানো হয়। এই দুই সাংবাদিক সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে রোহিঙ্গা গণকবরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করায় অং সান সু কি সরকার কর্তৃক জেলে নেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ