পেকুয়ার রোয়ানু’র ক্ষত সারেনি এখনো: পলিথিনের ছাউনিতে বজর আলমের ঘর

পেকুয়া প্রতিনিধি:
বজর আলম(৫৬)। দুই মেয়েকে নিয়ে সাগরের কুল ঘেঁষে বেড়িবাঁধের পাশে একটি কাঁচাঘর তৈরি করে বসবাস করতেন তিনি। নিজে শ্রম বিক্রি করে ও মাছের পোনা সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু তাঁর সব কেড়ে নিল। এখন দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে পলিথিনের ছাউনির নিচে দিন কাটছে তাঁর।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা গ্রামের বাসিন্দা বজর আলমের মতো রোয়ানুর আঘাতে নিঃস্ব হয়েছেন তাঁর বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী। ঝড়ের তান্ডবে ওই গ্রামের আটটি বসতঘর জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আরও ২৪টি বাড়ি।

রবিবার, ১২জুন শরৎঘোনা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বজর আলমের বসতভিটার কোনো চিহ্নই নেই এখন। পানির স্রোত ভিটার মাটি পর্যন্ত নিয়ে গেছে। তিনি এখন ১৪ ও ১৭ বছরের দুই কিশোরী নিয়ে বেড়িবাঁধের পাশে পলিথিনের ছাপড়ায় থাকছেন। তিনি বলেন, ‘দুই কিশোরীকে নিয়ে এভাবে থাকা যায়! দরজা নেই, জানালা নেই, শৌচাগার নেই। তার সাথে মাথার উপর ভারী বর্ষণ। ভারী বৃষ্টির কারণে এত প্রতিকূল পরিবেশে ঠিকে থাকার লড়াইটা আরেকটু কঠিন হয়ে দাঁড়াল। তারপরও বাঁচার তাগিদে বসবাস করছি। আরেকটি ঘর করার সামর্থ্য যে আমার নেই!’ বলতে বলতে তাঁর গলা ধরে আসে।’ কান্না চেপে ধরেন।

তিনি আরো বলেন, ‘২১ মে দুপুরে প্রতিদিনের মতো নদীর ধারে বাগদা চিংড়ির পোনা সংগ্রহ করছিলাম। এ সময় ঝড় শুরু হয়। একপর্যায়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে সাগরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। দ্রুত বাড়ি গিয়ে দেখি সেটি ভেসে গেছে জোয়ারের পানিতে। পানির স্রোতের সঙ্গে যুদ্ধ করে ছয়টি ছাগল, একটি মুরগি ও কিছু কাপড় রক্ষা করতে পেরেছি। দুটি ছাগল, আসবাবপত্র, খাবারদাবার সবই ভেসে গেছে।’

শরৎঘোনা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন ঘর মেরামতে ব্যস্ত। নুর জাহান বেগমের(৪৫) ঘরের দেয়াল ধসে পড়েছিল। তিনি মাটি সংগ্রহ করছেন আবারও দেয়াল তৈরি করবেন বলে। তাঁকে সহযোগিতা করছেন তাঁর স্বামী লবণ শ্রমিক শফিউল আলম। তিন ছেলে ও ছয় মেয়ে এই দম্পতির। লবণ মাঠও ডুবে যাওয়ায় শফিউলের কোনো কাজ নেই। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে তা জানেন তার।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের ১নম্বর ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মদ বলেন, শরৎঘোনা গ্রামে সব ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। মানুষ সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাঁদের পুনর্বাসন দরকার। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে গ্রামের প্রচুর মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমরা যা পারছি সাহায্য করছি। সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুর রশিদ খান আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, যাঁরা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন তাঁদের আমরা বাড়ি তোলার জন্য সহায়তা করছি। তাঁদের পূনর্বাসনে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক।