টেকনাফ থেকে যাচ্ছে ইয়াবা–আসছে চোরাই গাড়ী: মুল হোতা আটক

গিয়াস উদ্দিন ভুলু:
টেকনাফে পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়ে আসা ৭ টি চোরাই হওয়া গাড়ী উদ্ধার করেছে।
ডিবি পুলিশ সুত্রে আরো জানা যায়, সবগুলোই চোরাই গাড়ী বেচাকেনার পিছনে রয়েছে ইয়াবার লেনদেন।

টেকনাফের ইয়াবার ব্যবসায়ীর একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে এই অপর্কম চালিয়ে যাচ্ছে। এই সমস্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার গাড়ী চোর চক্রের সাথে তাদের সু-সম্পক রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষ সুত্রে আরো জানা যায়, টেকনাফের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা মরণনেশা ইয়াবার বিনিময়ে এসব চোরাই গাড়ী টেকনাফে এনে মওজুদ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ৮ জুন বুধবার ঢাকা থেকে আসা ডিবি পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাই গাড়ী সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারী টেকনাফের মেহেদী হাসানকে একটি চোরাই গাড়ীসহ আটক করে। তার স্বীকারোক্তি মতে দিনব্যাপি অভিযান চালিয়ে টেকনাফ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো ৬টি চোরাই গাড়ী উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে আরো জানা যায়, টেকনাফে ইয়াবার বিনিময়ে বেচাকেনা হওয়া এরকম আরো বহু চোরাই গাড়ী রয়েছে বলে জানা গেছে। ডিবি পুলিশের হাতে আটক টেকনাফের নাইটং পাড়ার বাসিন্দা আবদুল গফুরের পুত্র মেহেদী হাসান ইয়াবা পাচার করে গত তিন বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, এই মেহেদী হাসান এক সময় খুবেই হতদরিদ্র ছিল, সিগারেট কিনার পয়সাও তার পকেটে ছিলনা। পথে-ঘাটে সময় কাটানোর এই বেকার যুবক এই মেহেদী হাসান অথচ এখন ১০/১২ টি যানবাহনের মালিক। টেকনাফ পৌর শহরে কয়েকটি দোকানও রয়েছে তার। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করেছেন একটি অত্যাধুনিক বাড়ী।

সম্প্রতি অনুষ্টিত টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে এই মেহেদী হাসান ১নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলার পদে নির্বাচন করে বিপুল অংকের টাকাও খরচ করেছেন। ইয়াবা সাম্রাজ্যের এত বিপুল অংকের টাকা খরচ করেও মেহেদী কাউন্সিলার হতে পারেননি।

এলাকার লোকজন টেকনাফের তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারী মেহেদী হাসান সম্পর্কে আরো জানায়, নগদ টাকা নয়- গাড়ীর বিনিময়ে ইয়াবার চালান পাচারের হোতা হিসাবে টেকনাফের এই যুবকটি সর্বপ্রথম কাজ শুরু করে। রাজধানী ঢাকা সহ দেশের নানা প্রান্তের চোরাই গাড়ী টেকনাফে এনে গাড়ীর বিনিময়ে ইয়াবার লেনদেনের অজানা কাহিনীও এই প্রথম আবিষ্কার হয় পুলিশের হাতে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ মাইক্রোবাস মালিক সমিতির এক নেতা জানান, এসব চোরাইগাড়ীর হোতাদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল মজিদ জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকা থেকে আসা পুলিশের একটি বিশেষ দল আমাদের সহযোগিতা নিয়ে এসব চোরাই গাড়ী উদ্ধার করেছে। সেই সাথে চোরাই গাড়ী নিয়ে আটক ইয়াবা পাচারকারী মেহেদী হাসানকে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের বিশেষ দল চোরাই গাড়ীর মামলায় আটক দেখিয়ে ঢাকা নিয়ে গেছেন।

ওসি আরো জানান-ঢাকা থেকে আসা পুলিশ দলের অভিযানের পরই চোরাই গাড়ীর এই রমরমা বাণিজ্যের কথা তিনি জানতে পারেন।

ওসি জানান, টেকনাফে ইয়াবার বিনিময়ে কেনাবেচার এরকম গাড়ী আরো আছে কিনা তার সন্ধান চালিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।