নাফনদীতে নৌ-চলাচল ও মাছ ধরা আবার শুরু: মাদক পাচারে জেলেদেরকে জড়িত না হওয়ার আহবান প্রশাসনের

গিয়াস উদ্দিন ভুলু:

সীমান্ত এলাকা টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীতে দীর্ঘ ২৪ দিন পর নৌ-চলাচল ও মাছ শিকারের নির্দেশ পেয়েছে হতদরিদ্র জেলেরা। এতে জেলেদের পরিবারে দেখা দিয়েছে আনন্দ, উল্লাস ও উর্দ্দীপনা। ৬ জুন সোমবার বেলা ১১ টার দিকে টেকনাফ ২ বর্ডা গার্ড ব্যাটালিয়ন এর আয়োজনে টেকনাফ উপজেলার আওয়াতাধী নাফনদী এবং সমুদ্র উপকুলে মাছ ধরার কাজে নিযোজিত জেলেদেরকে নিয়ে এক মতবিনিয়ম/ সচেতনতামুলক আলোচনার সভার আয়োজন করা হয়েছে।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অথিতি ছিলেন, কক্সবাজার জেলার সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মো. তানভীর আলম খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন, ২ বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আলম, টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মজিদ, উপজেলা মৎস কর্মকর্তা হুমায়ুন মোর্শেদ, পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির প্রমুখ।

উক্ত সভায় উপস্থিত শত শত জেলেদের উদ্দেশে বক্তারা দিক নির্দেশনা মুলক বক্তব্যে বলেন, সরকারি আইন মেনে চলে মাছ শিকার করতে হবে। যেমন বেহুন্দিজাল, খুঁটিজাল দিয়ে মাছ শিকার না করা। মাছের পোনা নিধন থেকে বিরত থাকা, নদীতে মাছ শিকারের সময় নিজের পরিচয়পত্র বহন করা, বাংলাদেশের জল সীমার বাইরে গিয়ে মাছ শিকার না করা ইত্যাদি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেক্টর কমান্ডার মো. তানভীর আলম খান বলেন, মাছ শিকারের সরকারি সমস্ত আইন মেনে চলে মাছ শিকার করার আহবান জানান। পাশাপাশি তিনি জেলেদের উদ্দেশে বলেন, ইদানিং ইয়াবা ও বিভিন্ন মাদক পাচারে আপনাদের নৌকা ব্যবহার হচ্ছে এবং আপনারাও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে আতাত করে মাছ ধরার নামে এই ঘৃন্য কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। আমাদের কাছে এই ধরনে তথ্য অনেক রয়েছে। তাই আমরা আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি মাদক পাচার থেকে বিরত থাকবেন। পাচারকারীদের কোন তথ্য পেলে আমাদেরকে সংবাদ দিয়ে সাহায্য করবেন। সংবাদ দাতাদের নাম গোপন রাখা হবে।

উক্ত মত বিনিময় সভায় জেলেদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন , জালিয়া পাড়ার ইন্নামীন, হাসান আলী, জাফর আলম, হ্নীলা নাগমুরা পাড়ার এলাকার জেলেদের নেতা প্রকাশ দাসসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে টেকনাফ শরাণার্থী আনসার ক্যাম্পে হামলা, আনসার সদস্যকে হত্যা, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ২৪ দিন ধরে নাফনদীতে মাছ শিকার ও কোন নৌ-চলাচল করতে পারবে না বলে কঠোর নির্দেশ দেয় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরর। এর পর থেকে টেকনাফ নাফনদীর কুলঘেষা জেলেদের কপালে নেমে আসে দুঃখ-দুর্দশা। দীর্ঘ ২৪ দিন পর টেকনাফ বিজিবির সহায়াতায় আনন্দ উল্লাসে আত্মহারা হয়ে জালিয়া পাড়ার জেলে জাফর আলম বলেন, এতদিন মাছ শিকার করতে না পেরে অনেক কষ্টে অনেক দু:খে আমাদের সংসার চালাতে হয়েছে। আমরা টাকার অভাবে খুব চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। পাশাপাশি শুরু হয়েছে মাহে রমজান। অবশেষে বিজিবি ভাইদের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা নদীতে মাছ ধরার অনুমতি পেয়ে খুবই ভাল লাগছে। কারণ আমরা নদীতে মাছ শিকার করে রমজান মাসে সুন্দরভাবে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।