অরিত্রীর আত্মহত্যা: আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন দুই শিক্ষক

অনলাইন ডেস্কঃ
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন দুই শিক্ষক।

ঢাকার নামী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতার সোমবার ঢাকার হাকিম আবেদনে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান।

অরিত্রীর আত্মহত্যার আলোচিত ওই ঘটনায় মামলা হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেন ভিকারুননিসার এ দুই শিক্ষক।

নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী গত ৩ ডিসেম্বর শান্তিনগরের বাসায় আত্মহত্যা করার পর প্রায় এক সপ্তাহ উত্তেজনা চলে বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস ঘিরে।

পরিবারের অভিযোগ, পরীক্ষার সময় অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে ‘অপমান করেছিলেন’ অধ্যক্ষ। সে কারণে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, অরিত্রী বার্ষিক পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকলসহ ধরা পড়েছিলেন।

অরিত্রীর মৃত্যুর পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশ টানা তিন দিন স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতার ও শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী।

এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে আত্মহত্যায় ‘প্ররোচনার’ জন্য ওই তিন শিক্ষককে চিহ্নিত করা হলে তাদের বরখাস্ত ও এমপিও বাতিল করা হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও র‌্যাবকে চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সেই রাতেই গ্রেপ্তার হন হাসনা হেনা। ৬ ডিসেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সাঈদ এই শিক্ষকের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতেও ভিকারুননিসার একদল শিক্ষার্থী তখন আন্দোলন শুরু করে। শেষ পর্যন্ত চার দিন কারাগারে কাটিয়ে জামিন পান অরিত্রীর শ্রেণি শিক্ষক।

‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে আদালত।

সূত্রঃ বিডিনিউজ