২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা: হাইকোর্টে ৪৪ আসামির আপিল গ্রহণ

অনলাইন ডেস্কঃ
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৪৪ আসামির ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব আপিল উপস্থাপন করা হলে তা শুনানির জন্য গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়। আপিলকারীদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে অর্থদণ্ড স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের নথি তলব করেছেন। এখন মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হবে। এ সময় আসামি পক্ষে কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

গত ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এ মামলার ১১ আসামিকে। পুরানো ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন ভবনে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে ১৪ বছর আগের হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় বিচার শেষে রায় দেন। রায় ঘোষণার ৪৮ দিন পর নথি ২৭ নভেম্বর পৃথক লাল কাপড়ে মুড়িয়ে কড়া পুলিশ প্রহরায় হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ৩৬৯ ও ৩৫৬ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি রায় লেখেন বিচারক শাহেদ নুরউদ্দিন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে শ্রবণশক্তি হারান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।