ওয়াদা বাস্তবায়ন করতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর প্রথম দিন অফিসে এসে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণে কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের তাগাদা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, “যে ওয়াদা আমরা জাতির কাছে দিয়ে এসেছি সেটা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এটা করতে হলে কাজ করতে হবে। সেজন্য নির্বাচনী ইশতেহারকে আমরা গুরুত্ব দেই।

“ক্ষমতাটা শুধু চেয়ারে বসে ভোগ করা নয়, এটা জনগণের কাছে দায়িত্ববোধ।”

আগের মতোই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গত সোমবার চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রোববার প্রথম কার্যালয়ে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমাদের যে লক্ষ্য ছিল…. মাদকবিরোধী, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিলাম। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযানগুলি যেন অব্যাহত থাকে। এই দুর্নীতি যেন আমাদের উন্নয়নের পথে কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে বা আমাদের সকল অর্জনগুলি যেন ধ্বংস করে না দেয় সেজন্য দুর্নীতি রোধ করা এটাও আমাদের কর্তব্য।

“সেইজন্য আমি বলব, এই অভিযানগুলি অব্যাহত রাখতে হবে। তার জন্য আমাদের এই অফিসটা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব কিন্তু অনেক বেশি।”

প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতেও নিজের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমি অনুরোধ করব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আমরা যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে দেশে শান্তি, নিরাপত্তা রক্ষা করা।”

তিনি নিজেও আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শুরু করবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সকালে ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে নিজের কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবসের প্রথম ভাগ কাটান প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন তিনি।

কার্যালয়ের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, “২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, আমরা ১০ বছরে যা উন্নতি করতে পারলাম, তারা কেন তা করতে পারেনি। এ প্রশ্নের উত্তর যখনই খুঁজতে যাই তখনই মনে হয়, আসলে যারা স্বাধীনতাই চায় নাই তারাতো আর দেশের উন্নতি করবে না। করতে চায় না। তাদের কাছে ক্ষমতা ছিল একটা লোভের মতো।

“একটা জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে তার একটা ভিশন থাকতে হবে, দিকনির্দেশনা থাকতে হবে, লক্ষ্য ও পরিকল্পনা থাকতে হবে। সেটা না থাকলে কোনো দেশ এগোতে পারবে না।”

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাল মিলিয়ে চলতে হলে কোন দেশ উন্নত হল, উন্নত দেশের দিকে মুখ করে তাকিয়ে থাকলে হবে না। আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

“আমরা চেষ্টা করব, নিজের পায়ে দাঁড়াব, আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে চলব। অন্য দেশ যদি পারে আমরা পারব না কেন? আমাদের কিসের অভাব? কোনো অভাব নেই।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের শুধু উদ্যোগের অভাব, উদ্যমের অভাব, কাজ করার অভাব। তো সেই জায়গায়টায় আমরা যখনই এসেছি দিনরাত পরিশ্রম করেছি। সবাইতো বলছে, আপনারা এত খাটেন কেন? খাটাটাতো আমার নিজের জন্য নয়, খাটি দেশের জন্য, মানুষের জন্য।

“বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। অন্যান্য দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আমরাও সেইভাবে সমানতালে এগোতে কেন পারব না? সেদিকে লক্ষ রেখেই কিন্তু আমরা প্রত্যেকটা পদক্ষেপ নিয়েছি, পরিকল্পনা নিয়েছি।”

আশু করণীয় বিষয়গুলো ঠিক করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

“সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারলেই যে একটা অর্জন করা যায় সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।”

দেশকে উন্নয়নের একটা পর্যায়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকে কিন্তু সেই জায়গায় আমরা এসে গেছি। এত অল্প সময়ের মধ্যে এই যে আমরা উন্নতিটা করে একটা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতিটা পেয়েছি। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

“আমরা আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে অন্তত এটুকু বলতে পারি যে, আমরা জনগণের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।”

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বয়স ‘খুবই নতুন’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে ২০০-৩০০ বছর ধরে গণতন্ত্র চর্চা করে আসছে। তাদের ওখানেও কি গোলমাল হয় না? গোলমাল আছে, দ্বন্দ্ব আছে সবই আছে।

“আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠী। তারপরও আমরা সেই মানুষগুলিকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছি।”

এক হয়ে কাজ করা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য খুবই জরুরি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এদেশের উন্নতি হলে নিজের পরিবার, প্রতিবেশী সকলেরই উন্নতি। তাহলে আমাদের এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকবে কেন? অহমিকাবোধ থাকবে কেন? সবাই মিলে কাজ করলে একটা দেশ যদি উঠে আসে সেটাই করতে হবে।”

আর কখনো যেন ওই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে সেই প্রত্যাশা রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “যারাই আসুক স্বাধীনতার স্বপক্ষের। স্বাধীনতার চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাস করবে। স্বাধীনতার চিন্তা-চেতনাই বিশ্বাস করেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ একটি উপস্থাপনায় নির্বাচনী ইশতেহার ও এসডিজি বাস্তবায়নে কর্মসূচি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর চার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মশিউর রহমান, তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী ও তারিক আহমেদ সিদ্দিক বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে সাচিবিক অনুবিভাগ, ব্যক্তিগত অনুবিভাগ, প্রেস অনুবিভাগ এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন অধীনস্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ