সব দলকে ফের সংলাপে ডাকবেন প্রধানমন্ত্রী: কাদের

অনলাইন ডেস্কঃ
নির্বাচনের আগে যেসব দল এবং জোট সংলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের ফের গণভবনে ডেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ফাইল ছবি

রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “তাদেরকে আবার চিঠি দিয়ে সংলাপে ডাকবেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী)।”

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘জাতীয় সংলাপ’ করার ঘোষণা দেওয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমন বার্তা এল।

বিএনপিসহ কয়েকটি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত দল নিয়ে গতবছর ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সাত দফা দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়।

সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ছিল তাদের ওই সাত দফার মধ্যে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ইসির প্রস্তুতির মধ্যেই ওই সাত দফা দাবিতে সংলাপের আহ্বান জানানো হয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে।

অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে গণভবনে আলোচনায় বসেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর একে একে বিভিন্ন দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপ করেন সরকারপ্রধান। সাত দফার একটিও পূরণ না হলেও ‘আন্দোলনের অংশ হিসাবে’ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এরপর ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে মাত্র আটটি আসন পাওয়া ঐক্যফ্রন্ট শপথ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়। আর কামাল হোসেন জোটের পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপ করার ঘোষণা দেন।

ঐক্যফ্রন্টের ওই কর্মসূচিকে দুদিন আগে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের।

তিনিই রোববার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চার জেলার নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের আগে পুনরায় সংলাপের বার্তা দেন।

তবে কবে নাগাদ এ সংলাপ হতে পারে সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এক প্রশ্নে কাদের বলেন, “সংলাপে আসলে আমরা বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করতে পারি। বিএনপির প্রতি আমাদের অনুরোধটা রিনিউ করতে পারি। বলতে পারি, সংসদে আসুন। সম্পর্কটা রিনিউ করতে পারি।

নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রার্থী করা ‘ভুল’ ছিল বলে যে স্বীকারোক্তি কামাল হোসেন দিয়েছেন, সে বিষয়েও ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা।

উত্তরে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “জামায়াত মানে বিএনপি, বিএনপি মানে জামায়াত। কামাল হোসেন সাহেব জেনেশুনে কেন ভুল করলেন, সেই ভুলের খেসারত তাকেই দিতে হবে।“

সূত্রঃ বিডিনিউজ