গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপির সংসদে আসা উচিত: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
নির্বাচনে অল্প আসন পেলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপির সংসদে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা ও কাযনির্বাহী কমিটির যৌথসভার শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “মানুষ জানতেই পেরেছে যে এদের চরিত্রটা কী। এদের চরিত্র শোধরায়নি। বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করে দিছে।

“তারপরও যে কয়টা সিটে তারা জিতেছে, গণতন্ত্রের স্বার্থে তারা যদি চায়, তাদের পার্লামেন্টে আসা প্রয়োজন।”

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৭টি আসন, তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টি ২২ আসন পেয়েছে। মাত্র আটটি আসন পেয়েছে জাতীয়ফ্রন্ট,, যার মধ্যে বিএনপির ছয়টি আর হণফোরামের ২টি।

কারচুপির অভিযোগ তুলে ঐক্যফ্রন্ট ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান ও পুনঃভোটের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের জয়ী নেতারা সাংসদ হিসেবে শপথও নেননি।

পরাজয়ের জন্য বিএনপিকেই দোষারোপ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে- এই দোষ তারা কাকে দেবে? এই দোষ তাদের নিজেদেরকেই দিতে হবে।

“কারণ একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে তাহেল সেই রাজনৈতিক দল কীভাবে নির্বাচনে জেতার কথা চিন্তা করতে পারে?”

বিএনপি নেতাদের অর্থপাচার, ঘুষ-দুর্নীতি, এতিমের টাকা আত্মসাৎ, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

“বিএনপির মত একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে নেমেছে কিন্তু … যিনি মূল নেতা তিনি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করায় সাজাপ্রাপ্ত। যিনি ভারপ্রাপ্ত তিনিও বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামি। একটি রাজনৈতিক দলে পলাতক আসামি দিয়ে রাজনীতি করতে গেলে সেখানে কী রেজাল্ট হয় সেটাই তারা পেয়েছে।”

নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি যদি বাণিজ্য না করত তাহলে হয়ত আরো ভাল ফল করতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটুকু বলতে পারি যে, আমরা যখন সরকারে এসেছি, আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছি, জনগণের জন্য কাজ করেছি। আমরা কিন্তু কোনো রিভেঞ্জ নিতে চাইনি, বা আমরা কোউকে কোনো হয়রানিও করতে যাইনি।

“তাদের কৃতকর্মের জন্য বা দুর্নীতির জন্য যে মামলা হয়েছে সে মামলা আপন গতিতে চলবে। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন; কাজেই সেভাবেই চলবে।”

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়কে বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “২০০১ সালে চক্রান্ত করে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি।

২০০৮ এর নির্বাচনে ‘জনগণ বিপুল ভোটে বিজয়ী করে’ সরকার গঠনের সুযোগ করে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের আজকে এই উপলদ্ধি এসে গেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে তারা ভাল থাকে, তাদের জীবনমান উন্নত হয়। দারিদ্র্যের কষাঘাতে তাদের জর্জরিত হতে হয় না। তারা শান্তিতে থাকতে পারে। তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়।

“আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা একটানা হাতে ১০ বছর সময় পেয়েছিলাম। যার ফলে বাংলাদেশ আজকে সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় যে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছি, তার ফলে ২০১৮ নির্বাচনে আমরা দেখেছি, ২০০৮ বা ২০১৪ সালের নির্বাচনে যারা খুব দ্বিধাদ্বন্দে ছিল যে কী করবে, তারা কিন্তু সবাই এগিয়ে এসেছিল এই নির্বাচনে আমাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য।

“ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, মেহনতী মানুষ থেকে ব্যবসায়ী- সবার মনে একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, আওয়ামী লীগ আসলে তারা ভাল থাকবে, দেশটা ভাল চলবে, দেশটা উন্নত হবে।”

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে একটা স্বতঃস্ফূর্ততা এবং ভোট দেওয়ার আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে এদেশের তরুণ সমাজ এবং প্রথম যারা প্রথম ভোট দিচ্ছে ও নারী সমাজ।”

বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগই দীর্ঘসময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জনগণ সে আস্থা, বিশ্বাস রেখেছে। কাজেই জনগণের প্রতি আমাদেরও কর্তব্য অনেক বেড়ে গেছে।

“আরো পাঁচ বছরের জন্য আমরা ম্যান্ডেট পেলাম। আমাদেরকে এখন একটাই চিন্তা করতে হবে যে, আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি সেগুলো যেমন বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আরো কী কী করতে পারি সেটাও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অর্জনগুলো ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ পালিত হবে। সারাদেশব্যাপী ও আন্তর্জাতিকভাবে একবছর ধরে উৎসব চলবে।

একইসঙ্গে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের সৌভাগ্য স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। সূবর্ণজয়ন্তীও আমরা পালন করব।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ