মার্চের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন :উপাচার্য

অনলাইন ডেস্কঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের লক্ষ্যে এর গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্নিষ্ট কমিটি মতবিনিময় করেছে। সভায় ছাত্র সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে বিভিন্ন অভিমত ও পরামর্শ দিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলো যাতে এসব পরামর্শ লিখিতভাবে উপস্থাপন করতে পারে, সেজন্য আগামী সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বর্ধিত করেছে গঠনতন্ত্র সংশোধনবিষয়ক কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান গঠনতন্ত্র সংশোধনবিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক ও আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা ও অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা।

পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন করার প্রয়াস রয়েছে তাদের।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রকে যুগোপযোগী করার পরামর্শ দিতে গঠনতন্ত্র সংশোধনবিষয়ক কমিটিকে ১০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল কমিটির পঞ্চম কার্যদিবস। নির্দিষ্ট কার্যদিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক মিজানুর রহমান। পরে উপাচার্য তা সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করবেন।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নেই ও সহাবস্থান নেই বলে সভায় অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতারা। তবে ছাত্রলীগ নেতারা তা নাকচ করে বলেছেন, ছাত্রছাত্রী সবাই ক্যাম্পাসে আসছে। ক্লাস করছে, আড্ডা দিচ্ছে। সহাবস্থান না থাকার কিছু নেই। তারা বলেন, ছাত্রদলের যারা নেতা, তারা অনেক আগে পাস করে বেরিয়েছে। তারা যদি নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়, তা হলে কেউ বাধা দেবে না।

গতকালের সভা শেষে অধ্যাপক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছিল। আজকে (বৃহস্পতিবার) কমিটির সবাই ডাকসুর গঠনতন্ত্র পরিবর্তন পরিমার্জনের জন্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্র সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে সংশোধিত হয়েছিল। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি, তাই গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রয়োজনও হয়নি। প্রশাসন শিগগির এ নির্বাচন দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। আজকে সংগঠনগুলো তাদের পরামর্শ দিয়েছে। তবে সময় যথেষ্ট ছিল না। তাই আগামী সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরামর্শ দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে- যেন সংগঠনগুলো তাদের পরামর্শ উপস্থাপন করতে পারে।

তিনি বলেন, মতবিনিময় সভায় নতুন নতুন সম্পাদকের পদ সৃষ্টির দাবি এসেছে। নারী নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। অনেকে দাবি করেছেন, ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য নেই এবং সভাপতির ক্ষমতা গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি ক্ষেত্রে সবাই সমঝোতায় এসেছেন, নির্বাচনে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা প্রার্থী ও ভোটার হতে পারবেন। যদিও নিয়মিত শিক্ষার্থী বলতে কী বোঝায় এ নিয়ে সংযোজন-বিয়োজন, মতপার্থক্য থাকতে পারে।

সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের অসন্তোষের কারণগুলো কমিটির কাছে তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো উপাচার্য ও প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন। ছাত্রদল সভাপতি জানান, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে ডাকসু নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের অলঙ্কার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সচেতন, তাই তারা আশা করবেন, প্রশাসন দ্রুত সহাবস্থান নিশ্চিত করবে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, তারা চান নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই ডাকসু নির্বাচনে ভোট দেবে। নিয়মিত শিক্ষার্থী মানে অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার সহাবস্থান রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরাই নির্বিঘ্নে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না। তারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে রাজনীতির চর্চা করে তাহলে তাদের স্বাগত জানাব।

সভায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দীকী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক তমা বর্মন, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাসসহ ১৩টি ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

সভার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের কোনো সংশোধনী প্রয়োজন আছে কি-না, তা নিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) সংশ্নিষ্ট কমিটির সভা হয়েছে। গঠনতন্ত্র যাদের ভোটার বলে চিহ্নিত করবে, তারাই ভোটার হবে। উপাচার্য বলেন, ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে তারা অগ্রসর হচ্ছেন। সহাবস্থানের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রভোস্ট কমিটি সব হলে সহাবস্থান আছে বলে জানিয়েছেন। সব শিক্ষার্থীই ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যাবলি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করতে পারছে।

ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সংবাদ সম্মেলন :এদিকে মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত দাবিগুলো সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ডাকসু ও হল সংসদের সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যের ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও সব ভোটারকে নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে হলের পরিবর্তে বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে বুথের ব্যবস্থা করা, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নিরপেক্ষ পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা, ক্ষেত্র বিশেষে নতুন নতুন সম্পাদকের পদ সৃষ্টি করা ইত্যাদি। আগামী সোমবারের মধ্যে তারা লিখিতভাবে বিস্তারিত দাবি ও পরামর্শ উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।