কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে রামুর ৬ ইউপিতে নির্বাচন সম্পন্ন, জাল ব্যালটসহ আটক-১

 সুনীল বড়ুয়া:

কক্সবাজারের রামুর ছয় ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে দিনভর তটস্থ থাকতে হয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের। বিশেষ করে উপজেলার ফতেখাঁরকুল সদর ইউনিয়নে দুই-তিনটি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্ধী সাধারণ সদস্যদের মধ্যে সংগঠিত কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে এ সমস্যার সৃষ্ঠি হয়।

এ ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে হামলা-সংঘর্ষের পাশাপাশি ভোট কারচুপির অভিযোগও ওঠেছে এক মেম্বার প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এছাড়া জাল ব্যালট দিয়ে ভোট দিতে যাওয়ায় একজনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ছয়মাসের জেল দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এলাকার ভোটাররা জানান,সকাল দশটার দিকে নৌকা সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থী ফরিদুল আলমের বাড়ির পাশ্ববর্তী উত্তর ফতেখাঁরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী মোবারক হোসাইন বাগঘুর (ফুটবল) সমর্থকেরা সংবাদকর্মী আবুল কাশেম-এর উপর হামলা করে। এ সময় তাকে বেদম মারধর করা হয়। বেলা দেড়টার দিকে জাল ভোটদানে বাধা দেওয়ায় প্রতিদ্বন্ধী মেম্বার প্রার্থী মনির আম্মদের ( বৈদ্যতিক পাখা) উপর হামলা চালায় মোবারক হোসাইন বাগঘুর সমর্থকেরা । মেম্বার প্রার্থী মনির আহম্মদের অভিযোগ,দেড়টার দিকে বাগঘুর এক সমর্থক জাল ভোট দিতে গেলে তিনি বাঁধা দেন এবং কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার উপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে মারধর করে ভোট কেন্দ্র এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন,ওই প্রার্থীর সমর্থকেরা কেন্দ্রের ভেতরে প্রকাশ্যে প্রভাব বিস্তার শুরু করে। এ সময় তাঁর সমর্থকেরা ব্যালট পেপার নিয়ে প্রকাশ্যে সিল মারেন। অন্যদিকে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে পশ্চিম মেরংলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিজয়ী মেম্বার প্রার্থী রোকন উদ্দিন (মোরগ) ও প্রতিদ্বন্ধী দিদারুল আলমের (তালা) সমর্থকের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে মন্ডল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও।

চাকমারকুলের শ্রীমুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ব্যালট পাওয়ার অভিযোগে সাদ্দাম (২৭) নামের এক ব্যাক্তিকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের জেল দিয়েছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও লক্ষিছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শওকত উসমান ।

রামু থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর আমাদের রামু ডটকমকে জানান, কিছু কিছ ুকেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীদের কারণে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে তিনি জানান।