নোয়াখালীর ধর্ষণ মামলায় ২ জনের স্বীকারোক্তি

অনলাইন ডেস্কঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধর্ষণ মামলার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলার ২ নম্বর আমলী আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনিতা গুহ সোমবার বিকালে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আবুল খায়ের বলেন, গ্রেপ্তার ছালাউদ্দিন ও আবুল হোসেনকে সোমবার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডর আবেদন করে পুলিশ।

“এক পর্যায়ে বিকালে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।”

এ মামলার তিন আসামি আবুল, মুরাদ, ছালাউদ্দিনকে রোববার ভোররাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

চরজব্বার থানায় ওই নারীর স্বামীর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা তার বসতঘরে ভাংচুর করে, ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তার স্ত্রীকে।

এ মামলায় সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ওই নারীকে দেখতে যান সোমবার সকালে।

এ সময় তিনি এই ঘটনায় জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেন।

“সরকার ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, নিরাপত্তাসহ পুরো ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখছে।”

তবে এই ঘটনাকে পুঁজি করে কেউ যেন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।

এই ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে সুবর্ণচরের পাঙ্খার বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভূমিহীন কমিটির উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশি কবির।

তিনি সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী-ধর্ষকদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান।