এই পাশবিকতার শেষ কোথায়?

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুর টাইম লাইন থেকেঃ
এবারের নির্বাচনের আগে আগে একটা চিত্র এবং খবর খুব ঘন ঘন গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল। বিশেষ করে একাত্তর টিভি চ্যানেলে প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে প্রচার করা হচ্ছিল। পূর্ণিমা রানীর ছবি এবং বক্তব্য সস্বলিত সংবাদ। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সেই সময়ের শিশু পূর্ণিমার উপর দলবদ্ধভাবে পাশবিক অত্যাচার করা হয়েছিল। পাশবিক এই ঘটনা সবাইকে ছুঁইয়ে গিয়েছিল। এমন ঘটনার যাতে পুণরাবৃত্তি না হয় সেজন্য গণমাধ্যম সেদিনককার বিভৎস ঘটনাটি বার বার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল। বিষয়টি আমরা সবাই বুঝতে পারছিলাম।

গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক নারীর উপর প্রায় একই ধরণের কায়দায় পাশবিক অত্যাচার করা হল। নির্যাতিত ওই নারী একাধারে গৃহবধূ, স্ত্রী এবং মা হন। স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে তার উপর এই ঘৃন্য পাশবিক অত্যাচার করা হয় বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আমাদের দেশের চিরায়ত অপসংস্কৃতি হল কোন অপরাধ সংঘটিত হলে পরে অপরাধীর দলীয় পরিচয়, ধর্ম, জাত, শ্রেণী, গোত্র এসব নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। অপরাধ সংঘটিত করে অপরাধী যতটা দায়ী হওয়ার কথা তার চেয়ে ঢের বেশি দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয় অপরাধীর ধর্ম কিংবা তার দল, জাতিগোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের উপর। এখান থেকে অপরাধী বরাবরই সুবিধাটা পেয়ে যায়।

গত কয়েক দিন আগে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত ‘Foundations for Peace and Reconciliation: Exchanging Lessons from Asia-Pacific’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় গিয়েছিলাম। কর্মশালায় রোহিঙ্গা প্রসঙ্গটা ছিল। সেখানে এক এনজিও কর্মকর্তা তার বক্তব্যে বললেন ‘মিয়ানমারের বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের ধর্ষণ করেছেন’। কত বড় কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য! এই অনুষ্ঠানে দেশের এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। আমি আমার বক্তব্যে অনেকটা বাধ্য হয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করলাম। তখন তিনি আবার বললেন ভাই আমি দুঃখিত। আমি সেভাবে বলতে চাইনি। সবাইকে ঢালাওভাবে বলতে চাইনি ইত্যাদি অজৃহাত। গত কিছুদিন আগে উখিয়ায় সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনার সংবাদ স্থানীয় প্রত্রিকায় ছাপা হয়। কিছু কিছু পত্রিকা সংবাদের শিরোনামে লিখেছে ‘উখিয়ায় দুই উপজাতি ডাকাত ধৃত’। এখানে অপরাধী ডাকাতি করেছে এটার চেয়েও বড় সংবাদ হল অপরাধীরা উপজাতি সম্প্রদায়ের।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার নির্যাতিত নারীর ক্ষেত্রেও প্রায় একই সংস্কৃতি চর্চা করা হচ্ছে। তার উপর পাশবিক অত্যাচারকারীরা কোন রাজনৈতিক দলের এখন অনেকটা সেটা নিয়েই বেশি কথা হচ্ছে। একজন নারীর উপর, মানুষের উপর কিছু বিকৃতরুচির মানুষ পাশবিক অত্যাচার করল এই অপরাধের দায় তো তাদেরকেই নিতে হবে। এই জঘন্য অপরাধটা করতে দল কি তাদেরকে পাঠিয়েছিল? নাকি দল তাদেরকে লাইসেন্স দিয়েছে?

এটা প্রতিবাদী বিবেকী সমাজের বাংলাদেশ, এটা মানবিক বাংলাদেশ, এটা আজ থেকে ৪৮ বছর আগে এসব পাশবিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়ানো বাংলাদেশ। এটা টগবগে তারুণ্যের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। এটা মানবতার জননী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। এখানে এসব পাশবিকতার কোন স্থান থাকবেনা।