আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগষ্ঠিতা লাভঃ এগিয়ে যাক বাংলাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো দেশবাসীর একটা উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ছিল বলা যায়। ঠিক কি হতে যাচ্ছে, দেশ কোন দিকে যাবে, এবারের নির্বাচন সবার অংশগ্রহণ মূলক হবে কিনা, নির্বাচনে কোন দল জয়লাভ করতে পারে এসব বিষয় বুঝার চেষ্টা করেছেন অনেকে। সকল কল্পনা-জল্পনাকে ছাড়িয়ে অবশেষে ৩০ ডিসেম্বর অনেকটা শান্তিপূর্ণ এবং নির্বিঘ্ন পরিবেশে দেশব্যাপী সম্পন্ন হল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগের দিন এবং নির্বাচন চলাকালীন সময়ে কিছু সহিংসতার ঘটনা অবশ্যই বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে। গণমাধ্যমের বরাত অনুযায়ী রক্তাক্ত হামলা-সংঘর্ষের এসব ঘটনায় সারাদেশে অন্তত ১৭ জন ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে আমাদের কক্সবাজারের পেকুয়ারও একজন আছেন। নিহতরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী এবং সমর্থক বলে জানা যায়। তবে তাদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত একজন আনসার সদস্যও ছিলেন। নিহতরা কে কোন দলের অনুসারী ছিলেন সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা এই যে, একজন ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনাও গ্রহণযোগ্য নয় এবং এমন মর্মান্তিক ঘটনা কারো কাম্য নয়। আমরা নিহত সকল ব্যক্তির পারলৌকিক সদগতি কামনা করছি এবং নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

এদিকে সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলে টানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরপর থেকে শুরু হয় ভোট গণনা। প্রায় মধ্য রাতে সম্পন্ন হয় ভোট গণনার কাজ। স্থগিত হওয়া এক আসন ছাড়া ২৯৮ আসনের ফলাফল একের পর এক প্রকাশিত হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৯টি, জাতীয়পার্টি ২০টি, ঐক্যফ্রন্ট ৭টি (বিএনপি ৫টি + গণফোরাম ২টি), বিকল্পধারা ২টি, জাসদ ২টি, ওয়াকার্সপার্টি ৩টি, স্বতন্ত্র ৩টি, তরিকত ফেডারেশন ১টি এবং জেপি (মঞ্জু) ১টি আসনে জয় লাভ করেছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদিও এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করেছেন, ভারত, নেপাল, ওআইসি এবং সার্কসহ আন্তর্জাতিক মহল উক্ত নির্বাচনে জনমতের রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে বলে তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোতেও বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবর গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়।

একথা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভী আওয়ামী লীগ আগামী পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য পুণরায় সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বহাল থাকা দলীয় সরকার আগামীর জন্য কিভাবে পুণর্গঠন করা হবে, মন্ত্রী পরিষদ এবং সরকারের কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন সেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টিক করবে।

ইতোমধ্যে দলের প্রধান আওয়ামী লীগের দলীয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয় মিছিল বা আনন্দ শোভাযাত্রা না করতে দলের নেতা, কর্মী এবং সমর্থকদের বারণ করেছেন। একইসাথে বিরোধীদলের কারো উপর হামলা কিংবা সহিংসতা না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত এবং সাধূবাদ জানাই। আমরা আশা করতে চাই যে, আওয়ামী লীগের সবাই তাঁর এই নির্দেশনা এবং আহবানকে সম্মান করবেন। আর যদি কেউ কোথাও এই নির্দেশনা অমান্য করার ধৃষ্টতা দেখায় তাহলে দলীয় হাইকমান্ড নির্দেশনা অমান্যকারীদের কঠোর হাতে দমন করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। নির্বাচন পরবর্তী আমরা আর কোন ধরণের সহিংসতা এবং হিংসা হানাহানি দেখতে চাইনা।

আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক কোন দলের আর কোন অরাজকতাও আমরা দেখতে চাইনা। আন্দোলনের নাম শুনলে দেশের সাধারণ মানুুষ এখন ভয় পান। কারণ অতীতে আন্দোলনের যে সহিংস এবং ভয়াবহ রূপ দেশবাসী দেখেছেন তাতে ভয় পাওয়ারই কথা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আরো বেশি যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনি বিগত সময়গুলোতে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশও বিভিন্ন সূচকে ঈর্ষনীয়ভাবে এগিয়ে গেছে। একথা অস্বীকার করার কোন জো নেই। তবে অতীতের কিছু ভুল-ত্রুটি এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষাও নিতে হবে। আমরা মনে করি, বড় জয় মানে বড় দায়। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচন পূর্ববর্তী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার বার যে কথা বলেছিলেন তা হল, উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে সরকারের ধারবাহিকতা বজায় রাখা দরকার। দেশবাসী তাদের রায় প্রদান করে টানা তৃতীয় বারের মত সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিতে হবে। আমরা একথাও বলতে চাই যে, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার সবকিছু মিলেই যেন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা হয়। আর এই অগ্রযাত্রায় জাতিধর্ম, দলমত নির্বিশেষে সবাই যেন সারথি হন।

সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের মৈত্রীময় শুভেচ্ছা।

জয়তু বাংলাদেশ।

সম্পাদক
আমাদের রামু ডটকম