বদরখালীতে বাজার তদারকি না থাকায় রমজান শুরুর আগেই নিত্যপন্যের দাম বাড়ছে: কয়েকদিন পর পবিত্র রমজান

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রমজান মাস শুরুর আগে থেকেই বাজারে মাছ-মাংস, তরিতরকারি ও ইফতার সামগ্রী সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম হু-হু করে বেড়ে চলছে। অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজান মাসে একটু চাহিদা বেশি থাকায় অসাধু ব্যবসায়িরা এসব নিত্যদ্রব্য সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে নিন্ম মধ্যবিত্ত তো বটেই এমন কী সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই চলে যাচ্ছে ক্রয় ক্ষমতা।

জানা গেছে, বদরখালী বাজারে মঙ্গল ও শুক্রবার ২ দিন বড় হাট বসায় পাশ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন এখানে সওদা করতে আসে। সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং না থাকায় উচ্চ মূল্য হাকাচ্ছে। রমজান মাসকে সামনে রেখে সরকার বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বদরখালী বাজার কমিটি এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে তাদের গাফেলতির কারণে ও কোন ধরণের বাজার মনিটরিং না করায় একশ্রেণির মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ি সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এদিকে দ্রব্য মূল্য সহনীয় রাখতে ক্রেতারা টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে মালামাল বিক্রির জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। উপজেলার উপকূলীয় বৃহত্তর ইউনিয়ন বদরখালী সমবায় কৃষি উপনিবেশ সমিতি অবস্থিত বাজারে সরেজমিন দেখা যায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ওজনের ইলিশের দাম ৯’শ টাকা, গলদা চিংড়ি কেজি প্রতি ৭-৮শ টাকা, রুই ২৫০ টাকা, জাটকা ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ টাকা ও লইট্টা ১৫০ টাকা ও ডিমের হালি ৩৮ টাকায় বিক্রি করছে।

অপরদিকে রমজানকে সামনে রেখে সবচেয়ে দাম বেড়েছে ইফতার সামগ্রীর। এরমধ্যে ছোলার দাম ৯০-১০০টাকা, খেসারী ৫৫-৬০টাকা।

বিভিন্ন কোম্পানির ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটার ১০০-১১০টাকা, পিঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, চিনি ৬০টাকায় টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া খেজুর, ঘি, সেমাই সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। কাচাঁ তরকারী টমেটো ৩০ টাকা, দেশি আলু ৩৫ টাকা, ললিতা আলু ২৫ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা, লাউ ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়, পটল ৩০ টাকায়, ঢেঁড়শ ৩০ টাকায়, কাকরল ৩০ টাকায়, করলা ৩০, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাচা কলা প্রতি হালি ৪০টাকা, কাঁচামরিচ ৩০ টাকা, ঝিঙ্গে ২৫ টাকায় বিক্রি করছে খুচরা বিক্রেতারা।

খুচরা মাছ বিক্রেতারা জানান, পাইকারি আড়তদাররা অতিরিক্ত দরে বিক্রি করায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা ন্যায্য মূল্যে পন্য সামগ্রী কিনতে পারছে না। এব্যাপারে বাজার মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।