টেকনাফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইলের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ

 গিয়াস উদ্দিন ভুলু:

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেষখালীয় পাড়ার এলাকায় অবস্থিত ১৯নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইলের বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম ও নানান অভিযোগ উঠেছে।

টাকার বিনিময়ে উপবৃত্তি প্রধান, টাকা না দিলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বেপরোয়া মারধর, ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে ক্লাস রুমে ধুমপান করা, স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নামে ৮ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নিয়ে নির্বাচন না করা, অত্র এলাকার হেলাল নামে একজন সন্ত্রাসী ছেলেকে পরিচালনা কমিটিতে রেখে অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করা, সাংসদ আবদুর রহমান বদি কর্তৃক প্রদত্ত ল্যাপটপ ব্যবহার করতে না দেওয়া, সমাপনি পরীক্ষার ফি জনপতি ৬০ টাকার স্থলে ৮০ টাকা নেওয়া, নিজের ছেলেদের পরিক্ষার প্রশ্নপত্রে লিখে দিয়ে সাহায্য করা, প্রতিবাদ করলে সহকারী শিক্ষকদের অপমানিত করা, পঙ্গু ভাতা প্রাপ্ত শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের টাকা দিতে অনিয়ম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয় ত্যাগ করে বিভিন্ন দোকানে আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি।

উল্লেখিত অভিযোগে আরো জানা যায়, ২০০৩ সালে প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল এই বিদ্যালয় হতে একজন ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানী করার দায়ে তৎকালীন এসএমসি সদস্য ও সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিচারের মাধ্যমে তাকে দোষী সাব্যস্থ করে জরিমানা দিয়ে শিক্ষা অফিস কর্তৃক দুরবর্তী স্কুলে শাস্তি মুলক বদলি হয়।

ধারাবাহিক অপরাধ সংগঠিত করার কারণে  তিনি এই বয়সে ৮-৯টি স্কুলে বদলী হন। এব্যাপারে অত্র স্কুলের সহকারী শিক্ষক মানিক মিয়া, মুরতাজা বেগম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ২৬/৬/১৪ সালে প্রধান শিক্ষ মো. ইসমাইল যোগদান করার পর থেকে সে অত্র এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তার দাপটে আমরা অতিষ্ট যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। তার অপকর্মের ব্যাপারে সাংসদ, এডিসি শিক্ষা কক্সবাজার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও টেকনাফ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বরাবরে স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের করেছি।

অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলার প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আশিষ বোস বলেন, অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করে দেখি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের অনিয়ম ও অন্তর্কোন্দল রয়েছে। আমরা তাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছি ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় যাতে ব্যঘাত না হয়। সেই দিক বিবেচনা করে স্কুল চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কোন শিক্ষকের অপকর্ম বেরিয়ে আসলে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।