কিশোরী গৃহবধূর উপর পাশবিক নির্যাতনের বিচার চাই

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুর টাইম লাইন থেকেঃ
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলাধীন তেলখোলা একটি দুর্গম জনপদ। এখানে যুগ যুগ ধরে বেশকিছু সংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। তারা মূলত তনচঞ্চ্যা সম্প্রদায়ের হলেও অনেকে নিজেদেরকে চাকমা বলে পরিচয় দেন। তেলখোলা এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক পরিবার আছেন বলে তাদের সাথে আলাপে জানতে পারি।

চরম অবহেলায় থাকা দারিদ্রতা পীড়িত এই সহজ সরল মানুষগুলোর রাষ্ট্রের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। নিরবে সারাদিন খেটে যা পায় তা নিয়ে খেয়ে পরে বাঁচার লড়াইয়ে মগ্ন তারা। বলতে গেলে কারো কাচা আইলেও ভুল করেও পা ফেলে না তারা। ক্ষেত-খামার করে এবং জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহ করে চলে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ। গত বছর বলপ্রয়োগ পূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকরা (রোহিঙ্গা) আসার পর থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহের সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল ৯ ডিসেম্বর দুর্গম এই জনপদে গিয়ে খুব কাছ থেকে দেখলাম তাদের শোচনীয় অবস্থা। তার উপর এক গৃহবধূর উপর পাশবিক অত্যাচারের ঘটনা তাদেরকে আরো অসহায় এবং শংকিত করে তুলেছে।

গত ৩ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে গ্রামের পার্শ¦বর্তী জঙ্গলে লাকড়ি সংগ্রহে যায় স্থানীয় কিশোরী গৃহবধূ গীতা রানী তনচঞ্চ্যা (১৯)। এটা তাদের পেশা বলা যায়। একই এলাকার শামশুল আলম নামে এক ব্যক্তি গীতাকে একা পেয়ে পাশবিক অত্যাচার করে। ছোট এই গৃহবধু মেয়েটি সদ্য একটি শিশুর মা হয়েছে। এই অবস্থায় মেয়েটিকে পাশবিক অত্যাচার করা হল।

ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন মানবাধিকার সংগঠন কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নির্যাতিত মেয়েটির খোঁজখবর নিলেন না। এটা আমাদের কাছে খুবই অপ্রত্যাশিত। সবাই এত কাছে থেকেও মেয়েটির একবার খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধও করলেন না। মেয়েটির মানসিক অবস্থা, সামাজিক নিগ্রহ, দারিদ্রতার কষাঘাত, এবং সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর দখল সবমিলে তার উপর যে ভীষণ ঝড় বয়ে যাচ্ছে তা আমাদের উপলব্দি করার প্রয়োজন আছে।

মানবিক এই রাষ্ট্র এবং সমাজের উচিত তাকে অভয় দেওয়া, তার পাশে দাঁড়ানো।

সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম এই রকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। কিন্তু লোকলজ্জা আর ভয়ে অসহায়ত্তে¡র কারণে কেউ এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবাই জানতেন। তাদের ধারণা বলে লাভ কি। আমাদের দেশ এবং দেশের মানুষের এখনো এমন দুরাবস্থা হয়নি যে, তাদের এভাবে বাঁচতে হবে, এমনটা ভাবতে হবে। আসলে তাদের এই জিম্মিদশার খবর এতদিন বাইরে আসেনি। তাদের মধ্যে সেগোচরের প্রতিনিধিত্বও নেই। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েছে এলাকার শামশুল গংরা।

কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ নির্যাতিত গৃহবধূ এবং তার পরিবারকে আইনী সহযোগিতাসহ সবসময় পাশে থাকবে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসন অপরাধী ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করছে।

আমরা মানবাধিকার সংগঠন, নারী সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র এবং বিবেকবান সমাজকে নির্যাতিত গীতার পাশে দেখতে চাই। আমরা কিশোরী এ গৃহবধূর উপর পাশবিক নির্যাতনের ন্যায্য বিচার চাই।