খাশুগজি খুনে ‘ক্রাউন প্রিন্সের সরাসরি যোগ পায়নি গোয়েন্দারা’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মার্কিন কোনো গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নেই সাংবাদিক জামাল খাশুগজি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সরাসরি সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

আর্জেন্টিনায় শিল্পোন্নত দেশগুলোর জি-২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে শনিবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানান বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

পম্পেও বলেছেন, তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সব মূল্যায়নই দেখেছেন। কিন্তু কোথাও ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে সাংবাদিক খাশুগজি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কোনো ধরনের সম্পর্কের প্রমাণ নেই।

“মার্কিন সরকারের কাছে থাকা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সব মূল্যায়নই পড়েছি। যখন সব পড়া শেষ হল, যখন আপনি বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ করবেন, দেখবেন তার (সৌদি ক্রাউন প্রিন্স) সঙ্গে জামাল খাশুগজি হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সংযোগের প্রমাণ নেই। এটি নির্ভুল বিবৃতি, গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি এবং এ বিবৃতিই আজ আমরা জনসম্মুখে দিতে যাচ্ছি,” বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

খাশুগজি হত্যায় সৌদি আরবের ‘ডি ফ্যাক্টো’ শাসক প্রিন্স মোহাম্মদের দায় নিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) ‘বিশ্বাস’ ও মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে পম্পেও জানান, তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা সংস্থার বিষয়ে মন্তব্য করবেন না।

“গোয়েন্দা বিষয়, সিআইয়ের উপসংহার নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না,” বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সিআইএর মূল্যায়নে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদই সৌদি রাজপরিবারের বেশ কিছু নীতির সমালোচক খাশুগজিকে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটের ভেতরে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল।

সৌদি আরবের দাবি, সাংবাদিক খুনের বিষয়ে ক্রাউন প্রিন্স কিছুই জানতেন না।

খাশুগজি হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশটি একের পর এক পরস্পরবিরোধী কথা বলেছে। রিয়াদের সর্বশেষ ভাষ্যমতে, সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই খাশুগজিকে হত্যা ও তার মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে সরিয়ে ফেলা হয়।

সিআইএর মূল্যায়ন নিয়ে এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সন্দেহের কথা বলেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা খাশুগজি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সুনির্দিষ্ট উপসংহার টানেনি বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তিনি।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পম্পেও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব একসঙ্গে কাজ করছে। ওয়াশিংটনের জন্য রিয়াদের ‘ব্যাপক সমর্থনের’ কথাও উল্লেখ করেন এ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।