বিএনপির প্রার্থী আওয়ামী লীগের দ্বিগুণেরও বেশি

অনলাইন ডেস্কঃ
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ৩৬টি আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর পাঁচটি আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি ক্ষমতাসীনদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি।

যে আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেয়নি সেখানে তাদের জোটের শরিকদের প্রার্থী আছে। অবশ্য আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী দিয়েছে ২১০টি আসনে।

বুধবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৩০০ সংসদীয় আসনে জমা হওয়া দলভিত্তিক মনোনয়নপত্রের হিসাব প্রকাশ করেছে।

ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মোট ৩৯টি। সব দলই এখন পর্যন্ত একাদশ সংসদ নির্বাচনে এক বা একাধিক প্রার্থী রেখেছে। নিবন্ধিত ৩৯টি দলের নামেই মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ অবশ্য এ হিসাব তুলে ধরার সময় বলেছেন, ২৬৫টি আসনে আওয়ামী লীগের ২৮১ জন, আর ২৯৫ আসনে বিএনপির ৬৯৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৩ হাজার ৬৫টি। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৪৯৮টি। এ ছাড়া এলডিপির ১৫টি, জেপির ১৭টি, সাম্যবাদী দলের ৩টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ৩৭টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ৭৭টি, গণতন্ত্রী পার্টির ৮টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) ১৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টির ৩৩টি, বিকল্প ধারার ৩৭টি, জাপার ২৩৩টি, জাসদের ৫৩টি, জাকের পার্টির ১০৮টি, জেএসডির ৩১টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের ৪৯টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ১১টি, তরীকত ফেডারেশনের ২০টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ২৬টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৪৯টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ৯০টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ১৫টি, গণফোরামের ৬১টি, গণফ্রন্টের ১৬টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের ১৬টি, বাংলাদেশ ন্যাপের ৪টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ১৩টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ২৮টি, কল্যাণ পার্টির ৫টি, ইসলামী ঐক্যজোটের ৩২টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ১২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৯৯টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ২১টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির ৬টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ৩০টি, খেলাফত মজলিসের ১২টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ১৭টি, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ১টি, বিএনএফ ৭১টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে অনেক আসনে একই দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের ফাঁকা আসন ঠাকুরগাঁও-৩; নীলফামারী-৩ ও ৪; লালমনিরহাট-৩; রংপুর-১ ও ৩; কুড়িগ্রাম-২; গাইবান্ধা-১; বগুড়া-২, ৩, ৪, ৬ ও ৭; রাজশাহী-২; কুষ্টিয়া-২; বরিশাল-৩ ও ৬; পিরোজপুর-২ ও ৩; ময়মনসিংহ-৪ ও ৮; কিশোরগঞ্জ-৩; মুন্সীগঞ্জ-১; ঢাকা-৪, ৬ ও ৮; নারায়ণগঞ্জ-৫; সুনামগঞ্জ-৪; সিলেট-২; মৌলভীবাজার-২; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২; ফেনী-১ ও ৩; লক্ষ্মীপুর-২ এবং চট্টগ্রাম-২ ও ৫।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়েও বিএনপির সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এ জোটেও কোন দল কতটি আসনে লড়বে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বিএনপির ফাঁকা আসন টাঙ্গাইল-৮, মৌলভীবাজার-২, কুমিল্লা-৭, লক্ষ্মীপুর-৪ ও চট্টগ্রাম-১৪।

এর মধ্যে ২৫৭টি আসনেই বিএনপির ২ থেকে ৫ জন পর্যন্ত প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে ৩৮টি আসনে। এ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ৪৯৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন; যাদের একটি অংশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন।

ইসির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে প্রার্থীর সংখ্যা তিন হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা দুই হাজার ৫৬৭ জন, বাকি ৪৯৮ জন স্বতন্ত্র।

এর আগে বুধবার ইসি জানিয়েছিল, নির্বাচনে মোট প্রার্থী সংখ্যা তিন হাজার ৫৬ জন। ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বৃহস্পতিবার রাতে জানান, সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিসংখ্যানগত কিছু হেরফের হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অনেক প্রার্থী রাজনৈতিক দলের নামে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন; কিন্তু তারা দলের প্রত্যয়ন দিতে না পারায় তাদের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার নিবন্ধিত সব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে ১২টি দল অংশ নেয়। আর নবম সংসদে অংশ নেয় ৩৮টি। অষ্টম সংসদ নির্বাচনের আগে দল নিবন্ধনের বিষয়টি ছিল না। ওই নির্বাচনে ৫৫টি দল, সপ্তম সংসদে ৮১টি, ষষ্ঠ সংসদে ৪২টি ও পঞ্চম সংসদে ৭৫টি দল অংশ নিয়েছিল।

এ নির্বাচনে ১৭টি আসনে আওয়ামী লীগ দু’জন করে প্রার্থী দিয়েছে। আসনগুলো হচ্ছে- রংপুর-৬, নওগাঁ-৫, নাটোর-১, নড়াইল-১, বরগুনা-১, পটুয়াখালী-২, টাঙ্গাইল-২, জামালপুর-১, জামালপুর-৫, কিশোরগঞ্জ-১, ঢাকা-৫, ৭ ও ১৭, চাঁদপুর-১, ২ ও ৪ এবং লক্ষ্মীপুর-৩।

এ ছাড়াও বিএনপি ২৯৫টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে একক প্রার্থী দিয়েছে। বাকি আসনগুলোতে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে- ঠাকুরগাঁও-১ ও ৩, লালমনিরহাট-৩, গাইবান্ধা-১, বগুড়া-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, পাবনা-১, কুষ্টিয়া-১, চুয়াডাঙ্গা-২, মাগুরা-১, খুলনা-১ ও ২, জামালপুর-৪, ময়মনসিংহ-৫, কিশোরগঞ্জ-৬, ঢাকা-৩, মুন্সীগঞ্জ-৩, গাজীপুর-৩, ৪ ও ৫, নরসিংদী-১ ও ২, নারায়ণগঞ্জ-৩, মাদারীপুর-৩, শরীয়তপুর-১, ২, ও ৩, হবিগঞ্জ-১ ও ৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, নোয়াখালী-৬, লক্ষ্মীপুর-১, চট্টগ্রাম-১১, ১৫ ও ১৬ এবং কক্সবাজার-১, ২, ৩ আসনে।