রামুতে নৌকাডুবি!

সুনীল বড়ুয়া:
কক্সবাজার রামুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চারটিতে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা হেরেছে দলটির বিদ্রোহীর কাছে। অপর একটি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে বিএনপি’র প্রার্থী।

এদিকে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা ব্যালটবাক্স ছিনতাই করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৬০ রাউন্ড ফাঁকাগুলি বর্ষন করে।

শনিবার ২৮ মে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চমধাপে উপজেলার,গর্জনিয়া,কাউয়ারখোপ,রশিদনগর, ঈদগড়, ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

রামু উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে,পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে গর্জনিয়ায় আনারস প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম,কাউয়ারখোপে ঘোড়া প্রতিকের মোস্তাক আহম্মদ,রশিদ নগরে আনারস প্রতিকের এমডি শাহা আলম,ঈদগড়ে আনারস প্রতিকের ফিরোজ আহম্মদ ভুট্টো ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী আবু ঈসমাইল মো. নোমান বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এলাকার ভোটাররা বলছেন, বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত বিএনপি’র প্রার্থী ছাড়া চারজনই আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। স্থানীয় আওয়ামীলীগে দলীয় কোন্দল এবং ভুল প্রার্থী নির্বাচনের কারণে নৌকার প্রার্থীদের এ ভরাডুবি হয়েছে।

আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্ঠা:
নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলনা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, বেলা একটার দিকে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৮ ওয়ার্ডের মৌলভী কাটা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র এবং ও ৯ নং ওয়ার্ডের আলগিফারী এবতেদায়ী মাদ্রাসা কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল আমিন কোম্পানীর সমর্থকরা হামলা করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্ঠা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক মো.খায়রুল আলম,কনস্টেবল বাপ্পি,জুয়েল বড়ুয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হন। এ ঘটনায় দুই কেন্দ্রে প্রায় একঘন্টা ভোট গ্রহন বন্ধ থাকে।

তবে নুরুল আমিনের সমর্থকেরা এ সময় পুলিশের গুলিতে এক নারী আহত হন বলে দাবি করলে পুলিশ বলছে এটি সাজানো ঘটনা।
রামু থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, বেলা একটার দিকে অতর্কিত এক-দেড় হাজার লোক লাঠি সোটা নিয়ে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে ঢোকে পড়ে। এসময় তারা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ বাঁধা দিলে লোহার রড,লাঠি সোটা দিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠি চার্জ এবং অন্তত ৬০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় মো. ওসমান (১৯) ও ফকির মোহাম্মদ (৪০) নামের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।