ধূমপান নারীর জন্য বেশি ক্ষতিকর

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
ধূমপান যে কোনো মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। তবে সিগারেট পানের অভ্যাস থাকলে পুরুষের চাইতেও বেশি ক্ষতির ঝুঁকিতে আছেন নারীরা।

এই তথ্য নতুন নয়। ২০১১ সালে করা গবেষণায় এরকম তথ্যই পাওয়া গেছে। তবে কজন জানে এই বিষয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত এসব ক্ষতির দিকগুলো নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে এখানে কয়েকটি ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হল।

ক্যান্সারের দ্বিগুন ঝুঁকি: একজন নারী যদি একজন পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধূমপান করেন তবে ওই নারীর ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ওই পুরুষের তুলনায় দ্বিগুন। কারণ হল, সিগারেটে থাকা ‘কারসিনোজেন্স’ নারী ও পুরুষের শরীরকে প্রভাবিত করে ভিন্নভাবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই বিষাক্ত উপাদানের কিছুটা মূত্রের সঙ্গে বের হয়ে যায়। তবে নারীর ক্ষেত্রে তা হয় না, তৈরি হয় ‘কারসিনোজেনিক’ উপাদান।

হৃদরোগের ঝুঁকিও বেশি: চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল ‘লানসেট’য়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, একই মাত্রায় ধূমপান করলেও পুরুষের তুলনায় নারীর হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা ২৫ শতাংশ বেশি। এবং এই ঝুঁকি প্রতি বছর চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তেই থাকবে, যার মাত্রাও পুরুষের তুলনায় বেশি।

ধমনীর ক্ষয়: ইউরোপের এক গবেষণা অনুযায়ী, নারী-পুরুষ দুজনেরই সমপরিমাণ তামাকের সংস্পর্শে আসলে নারীর ধমনীর দেয়াল ক্ষয় হয় পুরুষের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি।

গর্ভধারণে ঝুঁকি: ধূমপায়ী নারীদের বন্ধ্যাত্ব এবং সন্তান প্রসবে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী অবস্থায় ধূমপান করলে অপরিণত সন্তান প্রসব, সন্তান জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যাওয়া কিংবা মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে উল্লেখযোগ্য হারে। ধূমপানের কারণে মায়ের বুকের দুধও হ্রাস পায়।

যদিও ধূমপানের কারণে পুরুষের উর্বরতা হ্রাস পায়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বেশি। কারণ মায়ের গর্ভেই সন্তান পরিণত হয়।