২১ আগষ্ট মামলার রায়ের কপি হাইকোর্টে

অনলাইন ডেস্কঃ
বহুল আলোচিত একুশে আগষ্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক আদালতের রায়সহ অন্যান্য নথিপত্র হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলার রায়সহ এসব নথিপত্র ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার আদালত থেকে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

হাইকোর্টে পাঠানো নথির মধ্যে রয়েছে- এ ঘটনার হত্যা মামলার ৩৬৯ পাতার মূল রায়ের কপি, বিস্ফোরক আইনের মামলার ৩৫৬ পাতার মূল রায়ের কপি, রাষ্ট্রপক্ষ, আসামিপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া সাক্ষীদের জবানবন্দি, যুক্তিতর্ক, আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য, আদালতে দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তি, আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের হাজিরা ও দরখাস্তের সার্টিফাইড কপিসহ মোট ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্টার নথি।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এ মামলার ১১ আসামিকে।

পুরানো ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন ভবনে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে ১৪ বছর আগের হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় বিচার শেষে রায় দেন।

রায় ঘোষণার ৪৮ দিন পর নথি মঙ্গলবার দুপুরে পৃথক লাল কাপড়ে মুড়িয়ে কড়া পুলিশ প্রহরায় হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ৩৬৯ ও ৩৫৬ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি রায় লিখেছেন বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন। পুরো রায়টিই ইংরেজিতে লেখা হয়েছে, যদিও নিম্ন আদালতের রায় বাংলায় লেখার বিধান রয়েছে।

এদিকে, আদালত সংশ্নিষ্ঠরা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে মৃতূ্যদণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণ) অনুমোদনের জন্য নথি হাইকোর্টে সংশ্নিষ্ঠ শাখায় পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পেপারবুক তৈরির জন্য সংশ্নিষ্ঠ শাখায় যাবে। পেপারবুক প্রস্তুত হলেই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ মামলা দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করা হবে।

অন্যদিকে, রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্তরা আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ডেথ রেফারেন্সসহ আসামিদের আপিল শুনানি এক সঙ্গে শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে শ্রবণশক্তি হারান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আদালতের দেওয়া রায়ে দণ্ডিতদের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় পলাতক ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয।

রায়ে বলা হয়, পরিকল্পনা ও অপরাধমুলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া যেসব আসামি পালিয়ে আছেন, তারা যেদিন আত্মসমর্পণ করবেন বা যেদিন তাদের গ্রেফতার করা হবে, সেদিন থেকেই তাদের দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। অনাদায়ে আসামিদের আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সূত্রঃ সমকাল