শরিকদের ৬০টির মতো আসন দিতে চায় বিএনপি

অনলাইন ডেস্কঃ
আড়াইশর কাছাকাছি আসন নিজেদের জন্য রেখে ৬০টি জোট শরিকদের ছেড়ে দিতে চাইছে বিএনপি।
বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত না হলেও মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথায় এই আভাস মিলেছে।

২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মিলিয়ে এখন বিএনপির জোটসঙ্গী দল রয়েছে ২৪টি। নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বাদে ২০ দলীয় জোটের তিনটি দল চারটি আসনে জিতেছিল। এবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আরও দল যোগ হয়েছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর প্রার্থীদের এখন ধানের শীষের প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছে বিএনপি।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই প্রক্রিয়া চলার মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে কথা বলেন ফখরুল।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তারা ৩০০ আসনে ২০ দলের পক্ষ থেকে প্রায় ৮০০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছেন।

বিএনপি অধিকাংশ আসনে ধানের শীষের একাধিক জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। মামলা কিংবা অন্য কারণে কারও প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার শঙ্কা থেকে এই পদক্ষেপ।

২০ দলীয় জোটের শরিকদের কত আসন ছাড়ছেন- প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এটার সঠিক ফিগার বলতে পারব না। সম্ভবত এরাউন্ড ফিফটিন।”

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন দিচ্ছেন। এটা আমরা পরে যখন বাছাই হয়ে যাবে, তখন ঠিক করে নেব।”

ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের কতটি আসন ছাড়বেন- জানতে চাইলে ফ্রন্টের মুখপাত্র ফখরুল বলেন, “এটা পরে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।”

সব মিলিয়ে কি তাহলে ৬০টির বেশি হবে না- এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন, “মনে হয়।”

কামাল হোসেনের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি ছাড়া দল রয়েছে গণফোরাম, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

এর মধ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, নাগরিক ঐক্যের এস এম আকরাম ও জেএসডির আ স ম আবদুর রব এক সময় সংসদ সদস্য ছিলেন; গণফোরামে এবার সাবেক দুজন সংসদ সদস্য যোগ দিয়েছেন।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, বিজেপি, খেলাফত মজলিশ, এলডিপি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, এনপিপি, লেবার পার্টি, সাম্যবাদী দলকে আসন ছাড়া হচ্ছে।

তবে কোন দলকে কয়টি, সে বিষয়ে বিএনপির কোনো নেতা কিছু বলেননি।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, নড়াইল-২ আসনে এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, চট্টগ্রাম- ১৪ আসনে এলডিপির অলি আহমদ, কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শাহিনুর পাশা, কুমিল্লা-৬ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের সৈয়দ মহিউদ্দিন ইকরাম, যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি মো. ওয়াক্কাস, খুলনা-৪ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের রেজাউল করীম, পিরোজপুর-২ আসনে লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, গাইবান্ধা-৩ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) টি আই ফজলে রাব্বী, চাঁদপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) এস এম এম আলম, কুষ্টিয়া-২ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) সেলিম মাস্টার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে প্রত্যয়নের চিঠি নিয়ে গেছেন।

নিবন্ধনহীন জামায়াতে ইসলামীর কাকে কাকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেন বিএনপি নেতারা।

নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দলীয় মনোনয়নের এই প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আছে আর একদিন।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রাথমিক মনোনয়নের ক্ষেত্রে এক আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যয়ন দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়।

সেখানে যাদের নাম থাকবে, কেবল তারাই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন, বাকিদের মনোনয়নপত্র বাদ যাবে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ