মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক ৩ ডিসেম্বর

অনলাইন ডেস্কঃ
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক হবে আগামী ৩ ডিসেম্বর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী এ তথ্য জানান সমকালকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের কাছে গিয়ে দলীয় প্রতীক নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রার্থীদের তার নির্বাচনী এলাকায় পর্যাপ্ত সময় দিয়ে যুব সমাজকে ভোটে আকৃষ্ট করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী অনির্ধারিত আলোচনায় একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচনে তরুণ সমাজকে ভোটে আকৃষ্ট করতে প্রার্থীদের সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দলের মনোনয়ন পেয়েছেন, তারা যেন এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে যান। বিশেষ করে সাধারণ ভোটাররা যাতে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় নেতাকর্মী ও প্রার্থীকে সক্রিয় হতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিগত দশ বছরের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নের কথা জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। যারা দলের মনোনয়ন পেয়েছেন, ভোটের জন্য জনগণকে কীভাবে আকৃষ্ট করা যায়, সেগুলো মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের পরেও মন্ত্রিসভার বৈঠক অব্যাহত থাকবে। তফসিল ঘোষণার আগে গত ৬ নভেম্বর মন্ত্রিসভা থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তারা ৬ নভেম্বর পদত্যাগপত্র দিলেও তা এখনও গৃহীত না হওয়ায় সোমবারের মন্ত্রিসভায় উপস্থিত ছিলেন। এই মন্ত্রীদের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে গত ৭ নভেম্বর নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর থেকেই তারা দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

এ বিষয়ে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা সবাই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও মন্ত্রিসভায় কোম্পানি (সংশোধন) আইন-২০১৮-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) আইন ২০১৮-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানি (সংশোধন) আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ওয়ানম্যান কোম্পানি’ গঠনের অনুমতির বিধান রেখে কোম্পানি (সংশোধনী) আইন-২০১৮-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনে একজন ব্যক্তি ‘ওয়ানম্যান কোম্পানি’ গঠন করতে পারবে।

তিনি বলেন, বর্তমান আইনে সর্বোচ্চ ৫০ জন সদস্য নিয়ে একটি লিমিটেড কোম্পানি গঠনের বিধান রয়েছে। তবে এই বিধান ওয়ানম্যান কোম্পানি গঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধু একজন ব্যক্তি এ ধরনের একটি কোম্পানি গঠন করতে পারবে। বিশ্বের অনেক দেশে এই আইন রয়েছে।

শফিউল আলম আরও বলেন, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের মতো গণমাধ্যমের আরও বিকাশে মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনিস্টিটিউট (সংশোধনী আইন) ২০১৮-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। আগে চলচ্চিত্রের সংজ্ঞায় বলা ছিল- সেলুলয়েড, এনালগ, ডিজিটাল বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে নির্মিত চলচ্চিত্র। এখন সেখান থেকে এনালগ শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র অর্থ সেলুলয়েড, ডিজিটাল বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে নির্মিত চলচ্চিত্র।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এখন থেকে প্রতিবছর ১২ ডিসেম্বর ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস’-এর পরিবর্তে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ উদযাপন করা হবে। মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।