ধানের শীষের মনোনয়ন পেলেন যারা

অনলাইন ডেস্কঃ
অধিকাংশ আসনে একাধিক প্রার্থী রেখে ধানের শীষের প্রাথমিক মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া শুরু করেছে বিএনপি।

সোমবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনের মনোনয়নের চিঠি তার প্রতিনিধিদের হাতে হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজায় কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া এবার মনোনয়ন নিয়েছেন ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে।

তার প্রতিনিধি হিসেবে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর হাতে প্রত্যয়নের চিঠি তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দলীয় মনোনয়নের এই প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে থাকায় এই প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছে।

খালেদা জিয়ার মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তরের পর বিকাল ৪টা থেকে বিভাগ ধরে ধরে আলাদাভাবে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা প্রত্যেকটি আসনে দুইজন করে প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিচ্ছি। কোনো কারণে একজনের না হলে পরেরজন যাতে সুযোগ পান। আর আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেখানে যারা আছেন, সেখানে তারাই মনোনয়ন পেয়েছেন।”

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রাথমিক মনোনয়নের ক্ষেত্রে এক আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যায়ন দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। সেখানে যাদের নাম থাকবে, কেবল তারাই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন, বাকিদের মনোনয়নপত্র বাদ যাবে।

৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী,মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর। আর প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বিএনপির পক্ষ মনোনয়নের তালিকা অনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও যারা চিঠি পেয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাদের নাম সংসদীয় আসন অনুযায়ী প্রকাশ করা হল।

রংপুর বিভাগ

পঞ্চগড়

পঞ্চগড়-১: নওশাদ জমির, তৌহিদুল ইসলাম

পঞ্চগড়-২: ফরহাদ হোসেন আজাদ, নাদিয়া আখতার

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও-১: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঠাকুরগাঁও-২: মো. আবদুস সালাম, জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী তুলা

ঠাকুরগাঁও-৩: জাহিদুর রহমান, জিয়াউল ইসলাম জিয়া

দিনাজপুর

দিনাজপুর-১: মঞ্জুরুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ চৌধুরী

দিনাজপুর-২: সাদিক রিয়াজ

দিনাজপুর-৩: জাহাঙ্গীর আলম, মোফাজ্জল হোসেন দুলাল

দিনাজপুর-৪: আক্তারুজ্জামান মিয়া, হাফিজুর রহমান সরকার

দিনাজপুর-৫: এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, এস এস জাকারিয়া বাচ্চু

দিনাজপুর-৬: মো. লুৎফুর রহমান, সাহিদুল ইসলাম শাহীন

নীলফামারী

নীলফামারী-১: রফিকুল ইসলাম, ন্যান্সি রহমান কবির

নীলফামারী-২: শামসুজ্জামান জামাল, কাজী আক্তার জামান

নীলফামারী-৩: ফাহমিদা ফয়সাল কমেট চৌধুরী

নীলফামারী-৪:

লালমনিরহাট

লালমনিরহাট-১:

লালমনিরহাট-২: সালাউদ্দিন হেলাল

লালমনিরহাট-৩: আসাদুল হাবিব দুলু

রংপুর

রংপুর-১: মোশাররফ হোসেন সুজন

রংপুর-২: ওয়াহিদুজ্জামান মামুন, মোজাফফর আলী

রংপুর-৩: রিটা রহমান (পিপিবি), মোজাফফর আহমদ

রংপুর-৪: এমদাদুল হক ভরসা

রংপুর-৫: সোলায়মান আলম, ডা. মমতাজ

রংপুর-৬: সাইফুল ইসলাম

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম-১: মো. সাইফুর রহমান রানা ও তার স্ত্রী শামিমা রহমান আপন

কুড়িগ্রাম-২: সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, আবু বকর সিদ্দিক

কুড়িগ্রাম-৩: তাজভীরুল ইসলাম, আবদুল খালেক

কুড়িগ্রাম-৪: আজিজুর রহমান, মোখলেছুর রহমান

রাজশাহী বিভাগ

জয়পুরহাট

জয়পুরহাট-১: ফয়সল আলীম, ফজলুর রহমান

জয়পুরহাট-২: গোলাম মোস্লফা, আবু ইউসুফ মোহাম্মদ খলিলুর রহমান

বগুড়া

বগুড়া-১: কাজী রফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শোকরানা

বগুড়া-২:

বগুড়া-৩: আব্দুল মুহিত তালুকদার, মাসুদা মোমেন

বগুড়া-৪:

বগুড়া-৫: গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জানে আলম খোকা

বগুড়া-৬: খালেদা জিয়া

বগুড়া-৭: খালেদা জিয়া

নাটোর

নাটোর-১: তাইফুল ইসলাম টিপু, অধ্যাপক কামরুন নাহার শিরিন

নাটোর-২: রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবিনা ইয়াসমিন ছবি

নাটোর-৩: দাউদ আর মাহমুদ ও অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন আনু

নাটোর-৪: আবদুল আজিজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: মো. শাহজাহান মিয়া, বেলাল বাকী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২: আনোয়ারুল ইসলাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩: আবদুল ওয়াহেদ, হারুনুর রশীদ

নওগাঁ

নওগাঁ-১: সালেক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, মাসুদ রানা

নওগাঁ-২: শামসুজ্জামান খান, খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী

নওগাঁ-৩: রবিউল আলম বুলেট, পারভেজ আরেফীন সিদ্দিকী জনি

নওগাঁ-৪: শামসুল আলম প্রামানিক, একরামুল বারী টিটো

নওগাঁ-৫: জাহিদুল ইসলাম, নজমুল হক সনি

নওগাঁ-৬: আলমগীর কবির, শেখ রেজাউল ইসলাম

রাজশাহী

রাজশাহী-১: আমিনুল হক

রাজশাহী-২: মিজানুর রহমান মিনু, সাঈদ হাসান

রাজশাহী-৩: মতিউর রহমান মন্টু, শফিকুল হক মিলন

রাজশাহী-৪: আবু হেনা, মো. আবদুল গফুর

রাজশাহী-৫: নাদিম মোস্তফা, নজরুল মণ্ডল

রাজশাহী-৬: আবু সাঈদ চাঁন, নুরুজ্জামান খান মানিক

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ-১: নাজমুল হাসান তালুকদার রানা

সিরাজগঞ্জ-২: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রুমানা মাহমুদ

সিরাজগঞ্জ-৩: আব্দুল মান্নান তালুকদার, সাইফুল ইসলাম শিশির

সিরাজগঞ্জ-৪:

সিরাজগঞ্জ-৫: মেজর (অব.) আব্দুল আল মামুন, আমিরুল ইসলাম আলিম

সিরাজগঞ্জ-৬: ড. এ এ মুহিত

পাবনা

পাবনা-১:

পাবনা-২: এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব

পাবনা-৩: কে এম আনোয়ারুল ইসলাম

পাবনা-৪: হাবিবুর রহমান হাবিব, সিরাজুল ইসলাম

খুলনা বিভাগ

মেহেরপুর

মেহেরপুর-১: মাসুদ অরুণ

মেহেরপুর-২: আমজাদ হোসেন

বরিশাল বিভাগ

বরগুনা

বরগুনা-১: মতিউর রহমান তালুকদার, নজরুল ইসলাম মোল্লা

বরগুনা-২: নুরুল ইসলাম মনি

পটুয়াখালী

পটুয়াখালী-১: আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার চৌধুরী

পটুয়াখালী-২: শহীদুল আলম তালুকদার, সালমা আলম

পটুয়াখালী-৩: গোলাম মওলা রনি, হাসান মামুন, মো. শাহজাহান,

পটুয়াখালী-৪: এবিএম মোশাররফ হোসেন, মনিরুজ্জামান মুনির

ভোলা

ভোলা-১: আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি)

ভোলা-২: হাফিজ ইব্রাহিম, রফিকুল ইসলাম মনি

ভোলা-৩: হাফিজউদ্দিন আহমেদ, কামাল হোসেন

ভোলা-৪: নাজিমউদ্দিন আলম, মো. নুরুল ইসলাম

বরিশাল

বরিশাল-১: জহিরউদ্দিন স্বপন, আবদুস সোবহান

বরিশাল-২: সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, শহিদুল হক জামাল

বরিশাল-৩: জয়নুল আবেদীন, সেলিমা রহমান

বরিশাল-৪: মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, রাজীব আহসান

বরিশাল-৫: মজিবর রহমান সারওয়ার, এমাদুল হক চাঁন

বরিশাল-৬: আবুল হোসেন খান, রশিদ খান

ঝালকাঠি

ঝালকাঠি-১: শাহজাহান ওমর

ঝালকাঠি-২: রফিকুল ইসলাম জামাল, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জেবা খান

পিরোজপুর

পিরোজপুর-১: জোট শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

পিরোজপুর-২: জোট শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

পিরোজপুর-৩: রুহুল আমিন দুলাল, শাহজাহান মিয়া

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ২০১৪ বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটসঙ্গীরা মিলিয়ে মোট ১২টি দল ওই নির্বাচনে অংশ নেয়।

অধিকাংশ দলের ভোট বর্জনের ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে, অন্যদিকে নবম সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সংসদের বাইরে ছিটকে পড়ে।

তার আগে ২০০৮ সারের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোট একসঙ্গে ভোট করে। ওই নির্বাচনে বিএনপি ৩০, জামায়াতে ইমলামী ২ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ