প্রতিবছর এশিয়া কাপ আয়োজনের চিন্তা এসিসি’র

ক্রীড়া ডেস্কঃ
এশিয়া কাপের নিজস্ব জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোকে ক্রিকেটের প্রতি আরও আগ্রহ তৈরি করেছে। আর তাই এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের এই প্রতিযোগিতা প্রতিবছর আয়োজনের চিন্তার কথা জানান এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের নতুন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

বুধবার পাকিস্তানের লাহোর থেকে এসিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভা থেকে ফিরে পাপন এ কথা বলেন। বর্তমানে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয় দু’বছর পরপর। টি২০ এবং ওয়ানডে এই দুই ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া কাপ। এশিয়া কাপের সূচির পরের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের কথা চিন্তা করে টি২০ বা ওয়ানডে ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া কাপ। সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ফরম্যাটে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ এবং ভারত ফাইনাল খেলে ওই আসরে। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এশিয়া কাপ হলেও দর্শক সাড়া ছিল খুবই ভালো।

বিষয়টি উল্লেখ করে পাপন বলেন, ‘আমরা এশিয়া কাপ প্রতিবছর আয়োজন করার চিন্তা করছি। এটা ইতিবাচক এক দিক। আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ প্রমাণ করেছে, এশিয়া বিশ্ব ক্রিকেটের প্রাণ। এতে কোন সন্দেহ নেই। মিটিং থেকে আমি জানতে পারলাম, বাংলাদেশ-আফগানস্তান ম্যাচটায় দর্শক উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচটা সম্ভবত দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। অবিশ্বাস্য! আগে এমনটা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হলেই হতো।’

তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাংলাদেশ অনেক বেশি দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে। আফগানিস্তানের আলাদা দর্শক তৈরি হয়েছে। এশিয়া অঞ্চলে ক্রিকেট আগের থেকে অনেক বেশি জনপ্রিয় হতে উঠেছে।’ এসিসি’র এই মিটংয়ে ক্রিকেটকে এশিয়ান গেমসে অন্তভূক্ত করার বিষয়ে আলাপ হয়। এছাড়া অলিম্পিকে ক্রিকেট কিভাবে অন্তভূক্ত করা যায় তা নিয়েও কথা উঠেছে বলে উল্লেখ করেন পাপন। তবে সব দেশে ক্রিকেট স্টেডিয়াম না থাকায় ওই সব টুর্নামেন্টে ক্রিকেট আয়োজন করা একটা সমস্যা বলে জানান এসিসি ও বিসিবি সভাপতি পাপন।

তিনি বলেন, ‘এশিয়ার সব দেশে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নেই। আর তাই আমরা একটা নির্দিষ্ট সময় পরে এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তভূক্তির পরিকল্পনা করছি। সেই পরিকল্পনা কি তা এখন খোলসা করছি না আমি। আমরা যদি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজার ধরতে পারি। তবে ক্রিকেট এমনিতেই এগিয়ে যাবে। তার জন্য অনেক কাজ বাকি। আমরা সেই কাজগুলো করবো।’

বাংলাদেশ সম্প্রতি আইসিসির কাছ থেকে বরাদ্দ পাচ্ছে না। এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি পাপন বলেন, ‘আইসিসির সঙ্গে এখন আমাদের সম্পর্ক একটু অন্য রকম। আমরা আগের মতো ফান্ড পাচ্ছি না। তার জন্য কিছু বিষয় নিয়ে আলাপ করতে হবে। আমাদের পরবর্তী মিটিং হবে ঢাকায়। আমার এসিসি’র সভাপতি পদের মেয়াদ থাকার মধ্যে সেটা আয়োজন করতে চাই। আইসিসির সভাপতির সঙ্গে আমার একটি মিটিং হবে। তার আগে আমরা কিছু বিষয় ঠিক করবো এবং তা নিয়ে আলাপ করবো।’