চকরিয়া ভূমি অফিসে চলছে ঘুষ বাণিজ্য: নিরহ মানুষের চরম ভোগান্তি

চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকটা ভেঙ্গে পড়ার পাশা-পাশি দপ্তরটি ব্যবসায়ীক বা দালাল প্রতিষ্টানে পরিণত হয়েছে। একই সাথে অনিয়ম-দুর্নীতি মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে। চলছে লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য। উম্মেদার-পিয়ন, সুইপার ও নাইটগার্ড’র দাপটে অসহায় চকরিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস-স্টাফ ছাড়াও সেবা প্রার্থী লোকজন।

নাজির ও অফিস সহকারীদের দপ্তরে গেলেই উম্মেদারের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে সেবা প্রার্থীদের। যেন বালাই নেই নিয়ম-কানুনের। চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। অফিস সহকারী ও নাজিরের ফাইলপত্র দেখভাল করছে পিয়ন ও উম্মেদাররা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হয়ে যাচ্ছে প্রায়শই। এতে হয়রানির শিকার হচ্ছে এলাকার লোকজন। এ ঘটনায় খোদ অফিসের স্টাফও নাখোশ।

উপজেলা ভূমি অফিসে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অফিস সহকারী ও নাজিরের দপ্তরে ফাইলপত্র দেখভাল করছে পিয়ন ইকবাল, আমিন, সুইপার আবছার, নাইটগার্ড বাসু, বহিরাগত কামাল, উম্মেদার সুবল দাশ, রেখা, নান্টু ও আব্বাসসহ বেশ ক’জন।

দেখা যায়, নাজিরের অফিসে কাজ করছে রেখা, সুবল, আমিন, আবছারসহ ছয়জন, অফিস সহাকারীর পরিবর্তে টেবিল চেয়ারে বসে কাজ করছে পিয়ন ইকবাল, নান্টুকে দেখা যায় কানুনগোর দপ্তরে। এ সময় একটি মামলার নথি কক্সবাজারে পাঠানো হয়েছে কিনা দেখতে আসা জনৈক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার নথিটি কক্সবাজারে তলব করলেও চকরিয়া ভূমি অফিস খোঁজে পাচ্ছেনা।
আমার থেকে ফটোকপি নিয়ে পুণরায় কাজ করতে চাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়মিত ওইসব অবৈধ কর্মচারীদের মাধ্যমে কাজ করাতে গিয়ে অফিসের সিনিয়র স্টাফদের চেয়েও উম্মেদারদের দাপট বেড়ে গেছে।

জমি নিয়ে যেকোন মামলা বা কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে অনৈতিক চুক্তি করতে হচ্ছে জবাবদিহিতামুক্ত বহিরাগত ও উম্মেদারদের সাথে। ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছে স্থানীয় লোকজন।

সূত্রে জানায়, ২০১১ সালের ২ মার্চ কক্সবাজারের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর দেবময় দেওয়ান স্বাক্ষরিত একটি আদেশনামা পাঠানো হয় ভূমি অফিসে। উম্মেদার না রাখা প্রসঙ্গে ওই আদাশে বলা হয় ভূমি অফিস সমুহে উম্মেদার না রাখার জন্য জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখা থেকে নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।

ওই আদেশে আরো বলা হয় উম্মেদার নিয়োজিত থাকলে তাদের শীঘ্রই ছাটাই করতে হবে। কিন্তু ওই আদেশ পালন হয়নি। লোকবল সংকটের অজুহাতে উম্মেদারের পাশাপাশি বহিরাগত দালালদেরও অফিস স্টাফের মতো ব্যবহার করছে কতিপয় সিনিয়র স্টাফ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই।

সহকারী কমিশনার ভূমি মো.রফিকুল হক অতিসম্প্রতি চকরিয়া থেকে বদলি হয়ে নোয়াখালী সদরে চলে গেছেন। রামুর মাহাবুব-উল করিমকে চকরিয়ার সহাকারী কমিশনার পদে দেয়া হয়েছে। ইউপি নির্বাচনের কারণে তিনি এখনও যোগদান করতে পারেননি।

ইউএনও সাহেদুল ইসলাম আরো বলেন, দেখি আমি দু-একদিনের মধ্যে ভূমি অফিস ভিজিট করবো। অনিয়ম পেলে তার সুরাহা করা হবে।