বর্ণচোরাদের ভোটে জবাব দেবে জনগণ: নাসিম

অনলাইন ডেস্কঃ
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, যারা বঙ্গবন্ধুর কথা বলে এখনও মুজিবকোট পরে থাকেন, তারা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এর বিচার ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ দিয়ে দেবে। এই বর্ণচোরা ভণ্ডদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে জনগণ প্রমাণ করে দেবে তাদের সঙ্গে দেশের জনগণ নেই। জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এসব বর্ণচোরা ভণ্ডকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের এক মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যখনই দেশে নির্বাচন আসে, তখনই একটি অপশক্তি দেশের সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখায় ও আঘাত করার চেষ্টা করে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেহেতু শুরু হয়ে গেছে, এখন থেকেই সংখ্যালঘু ভাইবোনদের নিরাপত্তা দিতে হবে। নির্বাচনের সময় ও পরে সংখ্যালঘুদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, ড. কামাল, মান্না ও রেজা কিবরিয়ার মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির সঙ্গে যোগদান গোটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। যারা বিপক্ষে যোগ দিয়েছেন, তাদেরই দুর্ভাগ্য। এটি আওয়ামী লীগ কিংবা ১৪ দলের দুর্ভাগ্য নয়। আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুজিবের চেতনার কথা বলে যারা বিএনপি-জামায়াত নামক একটি দুষ্টচক্র ও অপশক্তির মূল পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, তাদের আগামী নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৪ দলসহ মুক্তিযোদ্ধা ও সামাজিক সংগঠন নেতারা আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে-ময়দানে কাজ করবেন।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আমরা একটি পোস্টার তৈরি করব। যেখানে রাজাকার-আলবদর ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান থাকবে।

এর আগে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত নির্বাচনকালীন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ৩০-৩৫টি আসন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সভায় ১৪ দল নেতদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দিলীপ বড়ূয়া, শিরীন আখতার ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউলল্গাহ বীরউত্তম ও শাহরিয়ার কবির প্রমুখ সভায় যোগ দেন।