না ফেরার দেশে গর্জনিয়ার জমিদার পরিবারের দুই মহিয়সী নারী

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
রামুর বৃহত্তর গর্জনিয়ার প্রয়াত চেয়ারম্যান ইসলাম মিয়া চৌধুরীর প্রথম পুত্রবধু- উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সোলতান আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী আলহাজ্ব ছেনুআরা বেগমের (৬২) মৃত্যুর শোক সামলানোর আগেই এলো আরেক চিরবিদায়ের খবর। গর্জনিয়ার প্রয়াত জমিদার ফররুখ আহমদ সিকদারের সহধর্মিনী রহিমা বেগম (৮০) চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ফেসবুকে এই নিয়ে লিখেছেন অনেকে।

ছেনুআরা বেগম ১৬ নভেম্বর (শুক্রবার) সকাল ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। একই দিন বেলা ১২টায় রহিমা বেগম মারা যান চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে। তাঁরা দুজনই ছিলেন মহিয়সী নারী। ব্যক্তি জীবনে ছেনুআরা বেগমের কোন সন্তান না থাকলেও বংশের সকল ছেলেমেয়েদের অত্যন্ত অদর-যতœ করতেন। তিনি অনেকটা বটবৃক্ষের ভূমিকায় ছিলেন।

অন্যদিকে রহিমা বেগম মৃত্যুকালে সাত ছেলে, দুই মেয়ে ও অসংখ্য নাতী-নাতনী রেখে গেছেন। মৃত্যুর খবর শুনে তাঁদের দুজনের বাড়িতেই দুপুর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। সন্ধ্যা ছয়টায় লাশবাহি গাড়িগুলো স্ব স্ব বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এ সময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রিয় এই দুই নারীকে হারিয়ে একে-অপরকে জড়িয়ে কান্না শুরু করেন। শ্রদ্ধা জানাতে লোকজন চোঁখের পানি মুছতে মুছতে বলছিলেন- গর্জনিয়ার দুই জমিদার পরিবারে প্রয়াত দুই দরদি মহিলা সকলের মাথার ওপরের ছায়া ছিলেন। এ ক্ষতি অপূরণীয়।
রাত সাড়ে আটটায় গর্জনিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুই মহিয়সী নারীর জানাজা নামাজ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় হাজারো মানুষের ঢল নামে। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন প্রয়াত রহিমা বেগমের ভাইপো হাফেজ মাওলানা মো.আবু বক্কর।

নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন- প্রয়াত ছেনুআরা বেগমের স্বামী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সোলতান আহমদ চৌধুরী, সিকদারপাড়া আমির আলি চৌধুরী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু বক্কর, প্রয়াত রহিমা বেগমের ছেলে- গর্জনিয়ার সমাজসেবক ইস্কান্দর মির্জা।

নামাজে উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এড.শাহজালাল চৌধুরী, কক্সবাজার ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের পরিচালক ডা.শাহ আলম, পালর্স- বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মো.সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলিম, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী’সহ অনেক বিশিষ্টজনেরাও অংশ নেন। জানাজা শেষে প্রয়াত দুজনকে আমির আলি চৌধুরী জামে মসজিদ কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।