গর্জনিয়ায় কৃষক মাঠ স্কুলে কৃষিপ্রযুক্তির শিক্ষা

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বই, খাতা, কলম বা পেনসিলের ব্যবহার নেই। এরপরও এটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পাঠদান দেওয়া হয় কিষানকিষানিদের। এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের নাম কৃষক মাঠ স্কুল। অনেক শিক্ষার্থী নিরক্ষর। এ স্কুলে শেখানো কৃষিপ্রযুক্তির শিক্ষা এবার মাঠে প্রয়োগ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১০০জন প্রশিক্ষিত কিষানকিষানি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে গর্জনিয়া ইউনিয়নে দুটি কৃষক মাঠ স্কুলের কার্যক্রম শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ছয় মাস মেয়াদে কিষানকিষানিরা বিনা বেতনে সেখানে ভর্তি হন। তাঁদের সপ্তাহে দুদিন দুজন শিক্ষক দুই ঘণ্টা করে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের শিক্ষা দেন। পরিচয় করানো হয় উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাতের সঙ্গে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে হাঁস-মুরগি, গাভি, ছাগল পালন, মাছ চাষ করে বাড়তি আয়ের পথও দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) ওই দুটি স্কুলের ১০০জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এসময় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন- রামু উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, ছিদ্দিকুর রহমান, ফিরোজ আলম, গর্জনিয়ার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার চৌধুরী, সামাজিক উদ্যোক্তা শাহারিয়ার ওয়াহেদ চৌধুরী রাসেল, রাবেয়া বসরি প্রমূখ। আলোচনা সভা শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠাস্থলে বিভিন্ন কৃষি স্টল সকলের নজরে কাড়ে।

বোমাংখিল কৃষক মাঠ স্কুলের শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ বলেন, মাঠ স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়ে কম জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন সম্পর্কে জানতে পেরেছি। জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে অধিক উৎপাদন ও কীটনাশক ব্যবহার না করে রোগবালাই দমনের বিষয় শিখেছি।

বোমাংখিল গ্রামের গৃহবধূ মোছাম্মদ খাইরুন্নেচ্ছা ও সাজনীন জাহান বলেন, ‘ওই স্কুলে পারিবারিকভাবে খামার করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানো ও আধুনিক পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগি, ছাগল, ভেড়া ও গবাদিপশু পালন সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এবার তা বাস্তবে প্রয়োগ করবো।’