নির্বাচন বানচালে পুলিশের ওপর হামলা: কাদের

অনলাইন ডেস্কঃ
নয়া পল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির নেতা মির্জা আব্বাসকে দায়ী করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন বানচাল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তারা এই হামলা করেছে।

এর মধ্য দিয়ে বিএনপি আবারও তাদের ‘সন্ত্রাসী’ চেহারা প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণের তৃতীয় দিন বুধবার দুপুরে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

এর মধ্যে নয়া পল্টনের সড়কে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। পুলিশের দুটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।

বিকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় পুলিশের ১৩ সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসী এই হামলায় ১৩ জন পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

“বিএনপি আবারও প্রমাণ করল, তারা সন্ত্রাসী দল। কানাডার আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে রায় দিয়েছে। সেটা তারা আবার প্রমাণ করলো।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, পাল্টা আক্রমণে না গিয়ে ‘নীরব দর্শকের ভূমিকায়’ ছিল পুলিশ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনা শুনেছেন বলে জানান তিনি।

“পুলিশ সেখানে পাল্টা আক্রমণ না করায় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন,” বলেন কাদের।

শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন বানচালের ‘ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই হামলা’ মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “নির্বাচন পেছানোর দাবিতে নয়, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে বিএনপি এই হামলায় উসকানি দিয়েছে।

“এ উসকানি কারা দিল? তাহলে কি নির্বাচন পেছানোর জন্য? তারা পরিকল্পিতভাবে নয়াপল্টনে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে নিজেদের বীরত্ব জাহির করল। নির্বাচন বানচালের যে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা আমরা করেছিলাম, সেই ষড়যন্ত্রই কি তারা শুরু করে দিল?”

নির্বাচন বানচালের মাধ্যমে ‘জনপ্রিয় জননন্দিত’ শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানো বিএনপির উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

তবে কোনো ষড়যন্ত্রেই কাজ হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণ সব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে নির্বাচনে ‘স্বাধীনতার সপক্ষের’ শক্তিকে ভোট দেবে।

“পরিষ্কার কথা বলতে চাই, ইলেকশন হবে। যত ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত আর নাশকতা হোক- জনগণ ভোট দিতে আসবে। তারা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করবে।”

এই ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

“এ ধরনের পরিস্থিতি করে সরকার নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছে।”

তার এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যায়িত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আপনারা আবারও সেই পুরনো মিথ্যাচার করেছেন। মিথ্যাচারই তো আপনাদের রাজনীতি। পুরনো অভ্যাসমতো ভাঙ্গা রেকর্ড বাজাতে গেলেন। এত মিথ্যার বেসাতি কেন করলেন?

“প্রকাশ্য দিবালোকে কী ঘটেছে সবাই দেখেছে। সেখানে টিভি ক্যামেরা ছিল, সাংবাদিক ছিল। তারা জানে, সেখানে কী ঘটনা ঘটেছে।”

এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয় তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বলে জানান ক্ষমতাসীন দলের নেতা ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “তারা আজ প্রকাশ্য দিবালোকে অরাজকতা, নাশকতা সংঘটিত করেছে। চক্রান্তের দরজা প্রকাশ্যে খুলে দিল তারা। তাদের সেই দুরভিসন্ধির ব্যাপারে নির্বাচনের কমিশনের বক্তব্য কী, তা আমরা জানতে চাই।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি এবার ভোটে অংশ নিচ্ছে। দলটির প্রার্থী হতে উচ্ছুকরা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সদলবলে মনোয়ন ফরম তুলতে নয়া পল্টনে আসছেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতির কারণে সোম ও মঙ্গলবার ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এর আগে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময়ও নেতাকর্মীদের জটলায় ওই এলাকা যান চলাচল ব্যাহত হয়ে যানজটের ভোগান্তি তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার পুলিশ মহাপরিদর্শককে এক চিঠিতে দলীয় কার্যালয় বা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা নিয়ে যে কোনো মিছিল-শোডাউন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।