গর্জনিয়ায় নৌকার পালে হাওয়া

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী:
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের ছেলে বাংলার সুবেদার শাহ সুজার স্মৃতি বিজড়িত জনপদ কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউপি নির্বাচনে শেষ মূহুর্তে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের পালে হাওয়া বইছে।
গর্জনিয়া ইউনিয়নবাসীর জনপ্রিয়নেতা কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী তাঁর কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে আওয়ামীলীগের প্রকৃত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে একজন সৎ ও নির্ভীক জননেতা হিসেবে ফের আবির্ভূত হয়েছেন।

গর্জনিয়ার সাধারণ মানুষ জানান, তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে টিআর-খাবিকা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা সাধারণ লোকজনের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন।

নিজের স্বার্থে কখনোই এ মানুষটি কাজ করেনি। অথচ মহৎ এ লোকটি নিয়ে (তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী) মহল বিশেষের নেতৃত্বে এ ইউনিয়নে চলছে নোংরামি। কেউ আমাদের ভাগ্যের বিপর্যয় ঘটাবে এটা হতে পারে না। ভোট বাক্সে আমরা এসবের জবাব দিবো। তাঁরা আরও বলেন, আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ নৌকার বিপক্ষে কাজ করছে। যা দল ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সম্পূর্ণ নীতি ও আদর্শ বিরোধী।

এ ব্যাপারে গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঘরে শত্রু থাকবে এটাই স্বাভাবিক। যারা আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে, আমি মনে করি তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কাজ করছে। এর পরিণাম ষড়যন্ত্রকারীদের অবশ্যই ভোগ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে তাঁদের ভালবাসা এবং ভোট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এদের জবাব দিবো-ইনশাল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। কারণ তিনি বিগত পাঁচ বছরে এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, এলাকার জনসাধারণের সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানাভাবে কাজ করেছেন। তাঁর উদ্যোগের কারণে আগামী ৩ মাসের মধ্যে গর্জনিয়া ইউনিয়নে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। এছাড়া বাঁকখালী নদীর বিচ্ছিন্ন হওয়া সেতু চালুর লক্ষ্যেও তিনি প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে এ ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মৌলাও (ধানের শীষ) বলছেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাঁর জয় সুনিশ্চিত। তিনি জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খালেকুজ্জামান সেতু নির্মাণ, কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ, থিমছড়ি সড়ক সহ অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার করেছেন।

আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম (আনারস) জানিয়েছেন, গর্জনিয়া ইউনিয়নের যেসব বড় উন্নয়ন হয়েছে সবকিছুতে তাঁর অবদান রয়েছে। এলাকার উন্নয়নে এখনো কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে এ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুতায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবেন।

এদিকে ২৮ মে শনিবার অনুষ্ঠিতব্য রামুর ৫ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এসব প্রার্থীরা হলেন, ঈদগড় ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ফিরোজ আহাম্মদ ভূট্টো (আনারস), দিদারুল ইসলাম (মটর সাইকেল), নুরুল আজিম (ধানের শীষ), মো.নুরুল ইসলাম বাঙ্গালী (নৌকা)।

কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে নুরুল হক (ধানের শীষ), এস এম আবদুল মালেক (মটর সাইকেল), মোস্তাক আহাম্মদ (ঘোড়া), মো. হানিফ (আনারস) ও শফিউল আলম (নৌকা)।

রশিদনগরে শাহ আলম (আনারস), সিরাজুল ইসলাম ঘোড়া) বজল আহমদ (নৌকা), ও আবদুল করিম (ধানের শীষ)।

কচ্ছপিয়ায় জাকের আহমদ (আনারস), আবু মোহাম্মদ ইসমাঈল নোমান (ধানের শীষ), নুরুল আমিন (নৌকা)।

গর্জনিয়ায় তৈয়ব উলাহ চৌধুরী (নৌকা), গোলাম মওলা চৌধুরী (ধানের শীষ), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী সৈয়দ নজরুল ইসলাম (আনারস), মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ (মটর সাইকেল) ও মো. শাহারীয়ার ওয়াহেদ (ঘোড়া)।