তফসিলের পরই নির্বাচনকালীন সরকার শুরু হয়ে গেছে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

অনলাইন ডেস্কঃ
নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না এলেও ওই সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনকালীন বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের দেওয়া নাম। এগুলো সাংবিধানিক নাম নয়। সংবিধানে ওভাবে লেখা নেই।

নির্বাচনকালীন সরকার রুটিন কাজের মধ্যে আইন পাস করতে পারে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইন উঠতে পারে। তবে সংসদ না থাকায় পাস হবে না। আইন করতে বাধা নেই। এ ছাড়া আইন অনুমোদনের কাজ মন্ত্রিসভার নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে। এটাকে রুটিন কাজই বলা যায়। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প এগুলোকে স্পর্শ করে না।

মোহাম্মদ শফিউল আলম আরও বলেন, সরকার তো নিয়মিতই আছে, কোনো সমস্যা তো দেখছি না। নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরকারের টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রীকে গত ৫ নভেম্বর পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশনার পর তারা পদত্যাগপত্রও জমা দেন। তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে তারা পরদিন থেকেই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন। তাদের পদত্যাগপত্র এখনও গৃহীত হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, শুক্রবারই তা জানা যেতে পারে। এবার মন্ত্রিসভায় নতুন করে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা নাও হতে পারে বলে সেদিন তিনি ইঙ্গিত দেন। নির্বাচনকালীন সরকার বা মন্ত্রিসভার পরিবর্তন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু জানিয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, না, এ রকম কোনো সংবাদ নেই। তবে তফসিল যেহেতু হয়ে গেছে, তাই বর্তমান সরকারকেই নির্বাচনকালীন সরকার বলা যায়।

ট্যারিফ কমিশনের নাম পরিবর্তন: বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের নাম পরিবর্তন ও কাজের পরিধি বাড়িয়ে ‘বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৮’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাণিজ্যের প্রসার হওয়ায় বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের নাম বদলে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন’ নামকরণ করা হবে। ১৯৭৩ সালে একটা রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে ট্যারিফ কমিশন শুরু করা হয়। পরে ১৯৯২ সালে প্রণীত আইনে কিছুটা সংশোধন করে নতুন আইন করা হচ্ছে।

আগরতলায় যাবে বাংলাদেশি ট্রাক: দেশে নৌ চলাচল সহজ করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে আশুগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থেকে ভারতের দইখাওয়া পর্যন্ত ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ খনন প্রটোকল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড’ শীর্ষক চুক্তির খসড়ার ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-আগরতলা সরাসরি পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্রেলার চলাচল করতে পারবে। সীমান্তে ট্রাক বদলের প্রয়োজন হবে না। খননকাজের ৮০ ভাগ ব্যয় বহন করবে ভারত এবং ২০ ভাগ বহন করবে বাংলাদেশ।

এ ছাড়া নৌ জাহাজে কোনো নাবিক মারা গেলে তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতো; নাবিকদের মরদেহ নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।