ভোটের পালে লাগল হাওয়া

অনলাইন ডেস্কঃ
তফসিল ঘোষণার তিন দিন পর বিএনপির অংশগ্রহণের ঘোষণায় সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনের মাঠ; রোববার দিনভর সারাদেশে আলোচনার বিষয় ছিল এটিই।

বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা।

এরপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র দলগুলো ভোটের কাজে নেমে পড়লেও বিএনপির স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় দশম সংসদ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাই উঁকিঝুঁকি মারছিল মানুষের মনে।

কিন্তু রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলন থেকে জোটের প্রধান নেতা কামাল হোসেন ও মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলও ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

বিরোধী দলগুলোর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের এক নির্বাচনী সভায় বলেছেন, “সবাই যেহেতু নির্বাচন করবে সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা সকলে মিলে নির্বাচন করব। জনগণ যাকে চাইবে তাকে ভোট দেবে- সেটাই আমরা করব।”

ক্ষমতাসীন জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা আগেই জানিয়েছিল, ভোট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সরগরম আওয়ামী লীগের কার্যালয়। জাতীয় পার্টিও নির্বাচনের প্রচারে নেমে পড়েছে আগেই।

এখন ভোটের মাঠে এল বিএনপিসহ তাদের রাজনৈতিক মিত্ররাও। কেবল বাম গণতান্ত্রিক জোটের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বাকি আছে।

বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জনে সহিংসতার মধ্যেই পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে হয়েছিল দশম সংসদ নির্বাচন। নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

একই দাবিতে অনড় থেকে বিএনপি বিভিন্ন সময় সরকারের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়ে এলেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ নেতারা এমনও বলছিলেন, বিএনপি না এলে আগের বারের মতোই ভোট হয়ে যাবে।

দেড় মাস আগে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে নিয়ে নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর আকস্মিকভাবেই তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সংলাপে বসেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

দুই দফা সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে নির্বাচনের দাবি তুলে ধরলেও তাতে রাজি হয়নি আওয়ামী লীগ।

এরপর রাজশাহীর সমাবেশে আন্দোলনের হুমকি দিলেও তার দুদিনের মাথায় নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। তবে তারা বলেছেন, এই অংশগ্রহণ তাদের আন্দোলনের অংশ। ৭দফা থেকে সরে আসেননি তারা।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের লিখিত বিবৃতি পড়ে শুনিয়ে ফখরুল বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত খুবই কঠিন।

“কিন্তু এরকম ভীষণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর হবে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ; তার আগে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর।

তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, “আমরা বর্তমান তফসিল বাতিল করে নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি করছি। সেই ক্ষেত্রেও বর্তমান সংসদের মেয়াদকালেই নির্বাচন করা সম্ভব হবে।”

ভোটের তারিখ পিছানোয় আওয়ামী লীগের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও।

তিনি সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় বলেন, “নির্বাচন পেছাবে কি না পেছাবে, সেটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। নির্বাচনের শিডিউল সংক্রান্ত সব বিষয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে।”

সিইসি নূরুল হুদা ইতোপূর্বে বলেছিলেন, সব দল চাইলে সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থেকে কমিশন ভোটগ্রহণের সময়সূচি কয়েকদিন পেছানোর কথা ভাবতে পারে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটের তারিখ এক মাস পেছাতে ইসিতে রোববারই চিঠি দিয়েছে। এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টও নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সিইসি জানান, এ নিয়ে সোমবার বসবেন তারা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে রোববার তিনি বলেন, “এখন তো বলতে পারব না। যেহেতু আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। আমাদের মধ্যে এগুলো নিয়ে কথাই হয়নি।”

সোমবার সবার আবেদন নিয়ে বসবেন কি না- জানতে চাইলে সিইসি ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।

সেই সঙ্গে নূরুল হুদা ইঙ্গিত দেন, সব দলকে ভোটে আনতে কোনো পদক্ষেপ নিতে তাদের আপত্তি নেই।

“(সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক) এখনও চাই। আমরা অবশ্যই চাই, সব দল নির্বাচনে আসুক।”

সরকার সমঝোতা চায়নি বলে সরকারকে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি কামাল হোসেন দাবি করেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’র ন্যূনতম শর্ত এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি।

“নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও বিটিভিসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

তফসিল ঘোষণার ভাষণে সিইস বলেছিলেন, সবার জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে।

আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অভিযোগ তোলার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “নির্বাচনটা যেন সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক হতে পারে, সবাই যেন নির্বাচন করার সুযোগ পায়, সেদিকে আমরা দৃষ্টি রাখব, সে কথা আমরা দিয়েছি।”

এক পাড়া সরগরম, নামছে আরেক পাড়াও

তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই আওয়ামী লীগ তাদের ধানমণ্ডির কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে, ফলে সেখানে চলছে উৎসব আমেজ।

রোববার তৃতীয় দিনের মতো চলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি; মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মিছিল নিয়ে, বহর নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে ফরম কিনছেন।

এদিন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন ফরম কেনেন; তাকে ঘিরে ছিল ব্যাপক ভিড়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, অভিনেতা ফারুক, অভিনেত্রী শমী কায়সারও এদিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন।

রোববার পর্যন্ত তিন দিনে ৩২৯৬টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে আওয়ামী লীগের। এ থেকে দলের আয় হয়েছে ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সোমবার পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলবে। এরপর বুধবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করবে।

আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টি রোববার মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। আরও দুই দিন চলবে এই কার্যক্রম। এরপর দলের ১৫ সদস্যের পার্লামেন্টারি বোর্ড প্রার্থী বাছাই শুরু করবে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরদিন থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করছে বিএনপি।

দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, ধানের শীষ প্রতীক প্রত্যাশীদের কাছে সোম ও মঙ্গলবার মনোনয়ন ফরম বিক্রি করবেন তারা। বুধবার পর্যন্ত তা জমা নেবেন।

এরপর বিএনপির মনোয়ন বোর্ড তাদের প্রার্থী বাছাই করবে।

কামাল হোসেনের দল গণফোরামও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া রোববার শুরু করে দিয়েছে।

জোটের হিসাব-নিকাশ

১৪ দলীয় জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা আওয়ামী লীগ আগেই জানিয়েছিল। বিএনপি নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির কথাও তারা বলেছিল।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও বলে আসছিলেন, বিএনপি ভোটে এলে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করবে, আর বিএনপি না এলে তারা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের পরও একই কথা জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা।

তবে রোববার বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আলোচনা করে দুই-একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা।

এবার এরশাদ বলেছেন, “আমরা আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসনের তালিকা দিয়েছি। এর মধ্যে ৭০ আসন তো পেতে পারি।”

নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি মহাজোট করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল ২৬৪ জন, জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছিল ৪৯টি আসনে। স্থানীয় পর্যায়ে মতভেদের কারণে কয়েকটি আসনে উভয় দলের প্রার্থী ছিল। ওই নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির দুজন ও জাসদের তিনজন নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছিল।

বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল ২৪৭ জন। ওই নির্বাচনে নানা নাটকীয়তার পর জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে ভোটে অংশ নিয়েছিল, তাদের প্রার্থী ছিল ৮৬ জন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোট শরিকদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়টি, জাসদ পাঁচটি, তরীকত ফেডারেশন দুটি, জাতীয় পার্টি জেপি দুটি আসনে সংসদ সদস্য হয়েছিল।

এবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে অংশ নিচ্ছে নাজমুল হুদার দল।

বি চৌধুরীর বিকল্প ধারা কীভাবে অংশ নেবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তাদেরও আওয়ামী লীগের জোটে ভেড়ার আভাস দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, “যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে একটা অ্যালায়েন্স হতে পারে। তবে তারা নৌকায় ভোট করবেন না নিজেদের প্রতীকে ভোট করবেন, সে সিদ্ধান্ত হয়নি। ধরে নিচ্ছি তারা নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করবে।”

বিএনপি এতদিন ২০ দলীয় ঐক্যজোট নিয়েই ছিল; তাদের জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াতে ইসলামী এবার নিবন্ধনবিহীন। জামায়াতের নেতারা তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ২০ দলের সমর্থন চাইবেন বলে দলটির বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিল ২৬০ জন। বাকি আসনগুলো তারা জোটের অন্য দলগুলোকে ছেড়ে দিয়েছিল, তার মধ্যে জামায়াতের দুজন নির্বাচিত হয়েছিল। এছাড়া এলডিপির একজন ও বিজেপির একজন নির্বাচিত হয়।

এবার বিএনপিকে আসন ছাড়তে হবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর জন্যও। এই দলগুলোর মধ্যে গণফোরাম ছাড়াও রয়েছে কাদের সিদ্দীকীর কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি। মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের নিবন্ধন নেই।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের আটটি দলের মধ্যে সিপিবি, বাসদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিরই কেবল নিবন্ধন রয়েছে।

এই তিনটি দল গত নির্বাচনে অংশ নেয়নি। পরপর দুটো নির্বাচনে অংশ না নিলে নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।

প্রতীক নিয়ে কাড়াকাড়ি

নিবন্ধিত ৩৯টি দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ১২টি দল জোটগতভাবে ভোট করার কথা ইসিকে ইতোমধ্যে জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোটে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, জেপি, তরীকত ফেডারেশন ও ন্যাপ।

বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে আগ্রহীরা হল কল্যাণ পার্টি, এলডিপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিশ, বিজেপি, জাগপা, জেএসডি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ।

জামায়াতে ইসলামীর নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনতে শুরু করেছেন, ফলে তাদের একক প্রতীক থাকছে না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা গণফোরাম নিজেদের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়েই ভোট করবে বলে জানিয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর দল ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রতীক ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।

রোববার ইসিতে দেওয়া চিঠিতে গণফোরাম সভাপতি কামাল লিখেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘গণফোরাম’ যদি অংশ নেয়, তাহলে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ এর শরিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দলীয় প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে অংশ নেবে।

কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার আলাদা চিঠিতে ইসিকে লিখেছে, সংসদ নির্বাচনে তাদের দল ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের’ শরিক দল হিসেবে অংশ নেবে। দলীয় প্রতীক গামছা অথবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রতীক ব্যবহার করা হবে।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোট করতে আগ্রহী ইসলামী ফ্রন্ট।

বিকল্পধারা নিজেদের প্রতীক কুলা নিয়েই ভোটে নামতে চাইছে। সেই সঙ্গে জোটভুক্ত দলগুলো অভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করলে পরবর্তী নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি না, তাও জানতে চেয়ে ইসিতে চিঠি দিয়েছে।

বিকল্প ধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুকের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, “এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে চারটি নিবন্ধিত দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাতে শরিক দল কুলা মার্কা বা একই প্রতীকে ভোট করলে প্রতীকের উপর কী প্রভাব পড়বে, তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।”

বাম দলগুলোর জোট থাকলেও কেউ জোটভুক্ত প্রতীক ব্যবহার নিয়ে ইসিতে আবেদন করেনি। কেননা তাদের জোটের ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তই এখনও হয়নি।

সূত্রঃ বিডিনিউজ