সুগন্ধি যেন বেশিক্ষণ থাকে

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
দাম দিয়ে সুগন্ধি কেনার পরেও দিনের অর্ধেক যেতে না যেতেই ঘ্রাণ মিলিয়ে যায়? এর কারণ হতে পারে সঠিকভাবে সুগন্ধি ব্যবহার না করা।

সাজসজ্জা-বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সুগন্ধি ঠিকভাবে ব্যবহারের উপায় সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য এখানে দেওয়া হল।

গোসলের পরে স্প্রে করুন: গোসলের ফলে ত্বকের লোমকূপ উন্মুক্ত থাকে। এই সময় সুগন্ধি স্প্রে করা হলে তা দীর্ঘক্ষণ সুবাস ছড়ায়। তাই গোসলের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুগন্ধি স্প্রে করুন। আর্দ্র ত্বক সুগন্ধি ভালো ধরে রাখে। তাই গোসলের পরে সরাসরি ঘ্রাণহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে তার উপরে সুগন্ধি লাগান।

পাল্স পয়েন্ট: পাল্স পয়েন্ট বা শরীরের যেখানে যেখানে নাড়িরস্পন্দন পরীক্ষা করা যায় সেসব জায়গা উষ্ণ থাকে এবং এটা সুগন্ধ ছড়াতে সহায়তা করে। এসব স্থান আবৃত থাকায় একবারে সুগন্ধ না ছড়িয়ে ধীরে ধীরে ঘ্রাণ ছড়াতে সাহায্য করে।

কব্জির ভেতরের অংশে, কানের পেছনের অংশে, বুকের মাঝ বরাবর, মধ্যচ্ছদা, হাঁটুর পেছনের অংশে, কনুইয়ে ভাঁজে, গোড়ালিতে সুগন্ধি ব্যবহার করুন। শরীরের নিম্নাংশেও সুগন্ধি লাগান। এতে ঘ্রাণ দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকবে।

ঘষা যাবে না: সুগন্ধি লাগানোর পরে তা দুহাতের কব্জি দিয়ে ঘষে ব্যবহার করা একটা প্রচলিত ধারণা, এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

সুগন্ধি লাগিয়ে তা ঘষা দিলে এর গঠন ভেঙে যায়। ফলে সঠিক ঘ্রাণ পাওয়া যায় না। তাই হাতে সুগন্ধি লাগিয়ে হাত প্রসারিত করুন এবং নাড়ুন। এতে ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই সুগন্ধিকে উষ্ণ করবে ও সুবাস ছড়াবে।

চুলে স্প্রে করা: সুগন্ধি দীর্ঘস্থায়ী করতে চুলে সামান্য স্প্রে করুন। চুলে সুগন্ধি ধরে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা আছে। হেঁটে যাওয়ার সময় এটা দারুনভাবে ঘ্রাণ ছড়ায়।

সুগন্ধিতে অ্যালকোহল থাকে যা চুলকে শুষ্ক করে। তাই চুলে সামান্য পরিমাণে সুগন্ধি স্প্রে করতে হবে।

সুগন্ধি ঝাঁকাবেন না: অন্যান্য প্রসাধনীর মতো সুগন্ধি ঝাঁকিয়ে ব্যবহার করবেন না। এটা দ্রুত বাতাসে মিলিয়ে যেয়ে ঘ্রাণও দুর্বল করে দেয়।

উত্তপ্ত করা: শুষ্ক বা ঠাণ্ডা ত্বক ঘ্রাণ ধরে রাখতে পারে না। স্পন্দন বিন্দুতে সুগন্ধি ব্যবহার করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই সকল বিন্দুতে সামান্য তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে তার উপরে সুগন্ধি স্প্রে করুন।

সুগন্ধি নির্বাচনের সময়: সুগন্ধির ঘনত্ব দেখে তা নির্বাচন করুন। এর মানে হল কাঠ, অ্যাম্বার, চামড়া এবং মাস্ক ইত্যাদির প্রতি খেয়াল রাখুন। এগুলোর ঘ্রাণ দীর্ঘ স্থায়ী হয়। হাল্কা, ফুল, ঝাঁঝালো ঘাণ আপনার পছন্দ হলে ভারী সুগন্ধির উপরে এই হাল্কা সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন। ফলে তা আরও সুন্দর ঘ্রাণ ছড়াবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

তরল সুগন্ধির তুলনায় তৈলাক্ত সুগন্ধি বেশি স্থায়ী হয়। তাছাড়া তৈলাক্ত গঠনের সুগন্ধি থেকে আসল ঘ্রাণ পাওয়া যায়। তাই এধরনের সুগন্ধি নির্বাচন করাই শ্রেয়।

ভ্যাসলিনের ব্যবহার: স্পন্দন বিন্দুতে ভ্যাসলিন লাগিয়ে তার উপরে সুগন্ধি স্প্রে করুন। এটা ঘ্রাণ মিলিয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে ফলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

চাইলে বডি লোশন ব্যবহার করেও সুগন্ধি স্প্র করতে পারেন। শুষ্ক ও আর্দ্র ত্বক দীর্ঘক্ষণ সুগন্ধি ধরে রাখতে পারে না। তাই এটা বেশ কার্যকর পদ্ধতি। এই পদ্ধতি সুগন্ধিকে দ্বিগুণ শক্তিশালী করে।

সঠিকভাবে সংরক্ষণ
– সুগন্ধি ঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে চাইলে তা অন্ধকার ও ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন।

– অন্যান্য প্রসাধনির মতো ঝাঁকিয়ে ব্যবহার করবেন না।

– ব্যবহারের পরে তা বাতাসের সংস্পর্শে আসতে ও সুবাস ছড়াতে দিন।

মিশ্রণ
নিজের মতো সুগন্ধি তৈরি করুন। একটি সুগন্ধি ব্যবহার না করে দুটি সুগন্ধি লাগিয়ে নিজের মতো ঘ্রাণ তৈরি করে নিন। এতে আপনার স্বকীয়তা প্রকাশ করবে।