ভোটে জোটের তথ্য দিতে ৩৯ দলকে ইসির চিঠি

অনলাইন ডেস্কঃ
একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের ছোট শরিককে বড় দলের প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ দিতে চাইলে রোববারের মধ্যে তা নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে।

তফসিল ঘোষণার পর নিবন্ধিত ৩৯ দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে ইসির যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান জানিয়েছেন।

শুক্রবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, একাধিক নিবন্ধিত দল মিলে নির্বাচনী জোট গঠন করা হলে, সেই জোটের যে কোনো একটি দলের প্রতীক জোটভুক্ত দলগুলোর প্রার্থীদের বরাদ্দ করা যাবে। তবে সেজন্য তিন দিনের মধ্যে তা কমিশনে জানাতে হবে।

বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। ২২ নভেম্বর বাছাইয়ের পর ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। এরপর ৩০ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হলে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার। ভোট হবে ২৩ ডিসেম্বর।

ফিরে দেখা

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চালু হওয়ার হওয়ার পর ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি জোটের বড় দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকেই ভোটে অংশ নেয়।

এরপর ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনও নৌকা প্রতীক ব্যবহার করে।

জাতীয় পার্টি এই জোটে থাকলেও ভোট করে নিজেদের লাঙ্গল প্রতীকে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বর্জনে দশম সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের জায়গা পায়।

নবম সংসদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জোট করে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন একটি আসনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট করে। বিকল্পধারা সঙ্গে জোট করে পিডিপি কুলা প্রতীক ব্যবহার করে কিছু আসনে। এই দলগুলোও দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে।

অন্যদিকে নবম সংসদ নির্বাচেনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নিবন্ধিত দল বিজেপি, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। আরেক জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী ভোট করে নিজেদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায়।

বিএনপি ও শরিকরা দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে; জামায়াত নিবন্ধন হারায়।

এবার কী হবে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের পাশাপাশি শরিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ছয় দলের জাতীয় ঐক্যজোট খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত শুক্রবার পর্যন্ত তারা দেয়নি।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বড় শরিক জাতীয় পার্টি বলে আসছে, নির্বাচনে তারা জোটে যাবে, না আলাদাভাবে ভোট করবে তা নির্ভর করবে বিএনপির ওপর। বিএনপি গতবারের মত এবারও ভোট বর্জন করলে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে।

ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোনো দল ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করতে চাইলে সে সিদ্ধান্ত জানাতে সময় থাকছে রোববার পর্যন্ত। অবশ্য জোটগতভাবে ভোট করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের হাতে আরও সময় থাকছে।

যা করতে হবে

শুক্রবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বর্তমানে কমিশনে ৩৯টি নিবন্ধিত দল রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) মেনে যৌথভাবে প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ রয়েছে তাদের।

“সেক্ষেত্রে আরপিওর বিধান মেনে অন্য কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যৌথভাবে মনোনীত প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে ১১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট দলকে।”

প্রতীক বরাদ্দের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

পোস্টার সরাতে ৫ দিন

নির্বাচন করতে আগ্রহী যারা তফসিলের আগেই প্রচারে নেমেছেন, তাদের পোস্টার, ব্যানারসহ সব ধরনের প্রচার সামগ্রী বুধবারের মধ্যে সরাতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার ইসির যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেইট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জাসহ সব প্রচার সামগ্রী ও নির্বাচনী ক্যাম্প ১৪ নভেম্বর রাত ১২টার আগে নিজ উদ্যোগে সরিয়ে ফেলতে হবে।

এছড়া সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ