রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসবে বাংলাদেশ সরকারের সমৃদ্ধি ও বিশ্ব শান্তি কামনা

নীতিশ বড়ুয়া, রামু :
বাংলাদেশের বৌদ্ধদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপ-সংঘরাজ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের বলেছেন, সকলের মধ্যে একতা যতকাল থাকবে ততকাল পর্যন্ত এলাকায় সুখ-শান্তি ও আদর্শ বিরাজ করবে। হিংসা ত্যাগ করে অহিংসার মাধ্যমে আদর্শকে রক্ষা করতে হবে। তিনি বিশ্বের সকল প্রাণীর মঙ্গল ও বাংলাদেশ সরকারের সমৃদ্ধি কামনা ও সকল জীবের প্রতি আশীর্বাদ প্রদান করে সকলের প্রতি গৌতম বুদ্ধের অহিংস নীতি মেনে চলার আহবান জানান।

গতকাল শুক্রবার (৯ নভেম্বর) রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে অনুষ্ঠিত দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব ও সত্যপ্রিয় ভাবনা কেন্দ্র, বৌদ্ধ পুরাকীর্তি সংরক্ষণশালা এবং ভোজনশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দিনব্যাপী আয়োজনের দু’পর্বের অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেছেন ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এ প্রতিপাদ্যে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইসলামের পবিত্র ঈদুল ফিতরে কক্সবাজারের মুসলমানদের জন্য যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ উপহার দিয়েছেন, তেমনি হিন্দুদের সারদীয় দুর্গোৎসবে ও বৌদ্ধদের প্রবারণা পুর্ণিমার উৎসবে পুজার শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেছেন। যা ছিল বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

দু’পর্বের অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহিদুর রহমান, রামু সেনানিবাসের ৬৫ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ ছাদেকুজ্জামান এস,এফ, ডব্লিউ সি, পি, এস,সি। ৩০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ জাহিদুর রহমান, রামু উপজেলার নির্বাহী অফিসার লুৎফুর রহমান, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল মনসুর।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাজু বড়ুয়া, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সীমা মহাবিহারের ভদন্ত শীলপ্রিয় ভিক্ষু, সিনিয়র সহ-সভাপতি তরুন বড়ুয়া, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ব্যোমকেশ বড়ুয়া (বুনু)। পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন সীমা মহাবিহারের ধর্মীয় সম্পাদক শিক্ষক নয়ন বড়ুয়া ও নিমাংশু বড়ুয়া।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পুণ্যানুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহারের আবাসিক প্রধান ভদন্ত প্রিয়রত্ন মহাথের। ধর্মদেশনা করেন, রামু বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ও একশ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধমুর্তির প্রতিষ্ঠাতা করুণাশ্রী মহাথের, উখিয়া কোটবাজার সুদর্শন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শাসনপ্রিয় থের প্রমূখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ত্রিপিটক থেকে মঙ্গলাচরণ করেন ধর্মপাল ভিক্ষু ও করুণাপ্রিয় ভিক্ষু।

কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো ভোরে বিশ্ব শান্তি কামনায় সুত্রপাঠ, বুদ্ধপুজা, ভিক্ষু সংঘের প্রাতঃরাশ, সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, সত্যপ্রিয় ভাবনা কেন্দ্র, বৌদ্ধ পুরাকীর্তি সংরক্ষণশালা এবং ভোজনশালার উদ্বোধন, সদ্ধর্ম্ম সভা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, গ্রামবাসী ও শ্রীলংকার উপাসক-উপাসিকাদের সহযোগিতায় অষ্টপরিষ্কার ও মহাসংঘদান উৎসর্গ, ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, অতিথি ভোজন। দুপুরে কঠিন চীবর ও কল্পতরু নিয়ে গ্রাম প্রদক্ষিণ, চীবর পরিক্রমা, কঠিন চীবর ও কল্পতরু উৎসর্গ এবং সন্ধ্যায় বিশ্ব শান্তি কামনায় সমবেত উপাসনা।

দিনব্যাপি মহতী ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুন্দর ও শান্তিপুর্ন ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুন্যার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাজু বড়ুয়া।