পৃথিবীর আকাশে তিন ‘চাঁদ’!‌

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
চীন যে আরও দু’টি কৃত্রিম চাঁদ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে সে খবর এতোদিনে সবারই জানা থাকার কথা। কিন্তু চীন নকল চাঁদ তৈরির আগেই পৃথিবীর আকাশে আরও দু’টি প্রাকৃতিক ‘চাঁদের’ খবর মিললো।

বিজ্ঞান পত্রিকা ‘‌মান্থলি নোটিসেস অব দ্য র‌য়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’‌–তে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হাঙ্গেরির পদার্থবিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন, চাঁদের সঙ্গেই পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে ধুলোর দুটি মেঘ, যেগুলো দূর থেকে দেখতে লাগে ঠিক যেন ধুলোর চাঁদ। সেই ধুলোর চাঁদের ছবিও প্রতিবেদনে প্রকাশ করে নিজেদের দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ধুলোর ওই চাঁদের নাম ‘‌কর্দিওলেভস্কি ধুলোর মেঘ’‌, কারণ, ১৯৬১ সালে পোল্যান্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞানী কাজিমিশ কর্দিওলেভস্কিই প্রথম ওই ধুলোর চাঁদের দর্শন পেয়েছিলেন। তবে তখন তার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বৈজ্ঞানিক মহল।

নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পৃথিবী থেকে চাঁদ যতটা দূরে, কর্দিওলেভস্কি ধুলোর চাঁদও সেই ২ লাখ ৫০ হাজার মাইল দূরে রয়েছে পৃথিবী থেকে। দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থে এগুলো প্রায় ১৫–১০ ডিগ্রি চওড়া, যা চাঁদের দৈর্ঘ্য–প্রস্থ ৩০–২০ ডিগ্রির সমান। চাঁদ যেভাবে এবং যে গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে কর্দিওলেভস্কি ধুলোর চাঁদও সেভাবেই পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। ধুলোর চাঁদের কক্ষপথের মাধ্যাকর্ষণ বিন্দুর নাম ল্যারাঞ্জ পয়েন্ট। এর মধ্যে কোনো ধূলিকণা ঢুকলে তা স্থির হয়ে আটকে থাকে এবং চাঁদ ও পৃথিবী থেকে সম পরিমাণ দূরত্বেই থাকে।

এই ধুলোর মেঘ আকারে অনেকটা বড় হলেও যে ক্ষুদ্র ধূলিকণা দিয়ে এগুলো তৈরি হয়েছে তা এক মাইক্রোমিটারেরও কম। রাতের মহাকাশে এই ধুলোর চাঁদ সাধারণত দৃশ্যমান নয়, কারণ সূর্যের আলো এর ওপর প্রতিফলিত হলেও তা অত্যন্ত ক্ষীণ। রাতের আকাশে নক্ষত্রের আলো, গ্রহ–উপগ্রহের প্রতিফলিত আলো বা আকাশের নিজস্ব আলোর থেকেও ক্ষীণ আলো হওয়ায় কর্দিওলেভস্কি ধুলোর চাঁদকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা কঠিন কাজ বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।