আড়াই হাজার কোটি টাকায় হচ্ছে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্কঃ
নেত্রকোনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটিসহ মোট ২৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলোর মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা।

ভোটের আগে সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে অনেকগুলো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হল। এর মধ্যে দুদিন আগে এক বৈঠকে রেকর্ড সংখ্যক ৩৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণে পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। তখন থেকে সরকার রুটিন দায়িত্বের পাশাপাশি আর কোনো কাজ করবে না।

সেক্ষেত্রে এটাই একনেকের শেষ সভা কি না- জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, “এটা শেষ একনেক সভা কি না, বলতে পারব না। আমাদের কাছে অনুমোদন দেওয়ার মতো আরও প্রকল্প আছে। কিন্তু নির্বাচনী আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তো আর অনুমোদন দেওয়া যাবে না।”

শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভার পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নেত্রকোনায় ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি নেত্রকোনা সদরে ৫০০ একর জমির ওপর স্থাপন করা হবে। ওই জমিতে ১০ তলা ভিতের ১০ তলা বিশিষ্ট তিনটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ১০ তলা ভিতের ওপর ১০ তলার দুটি ছাত্রী ও দুটি ছাত্র হল এবং শিক্ষকদের জন্য ১০ তলা ভিতের ওপর একটি ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

এছাড়াও চার তলা ভিতের ওপর একটি চার তলার প্রশাসনিক ভবন, কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য ১০ তলা ভিতের ওপর আবাসিক ভবন, শিক্ষকদের জন্য ১০ তলা ভিতের ওপর একটি ১০ তলা ডরমিটরি ভবন তৈরি, উপাচার্য ও রেজিষ্ট্রারের জন্য ২ তলা ভিতের ওপর দুই তলা বিশিষ্ট দুটি ডুপ্লেক্স বাংলো নির্মাণ করা হবে।

পাশাপাশি ৩ তলা ভিত্তির ওপর একটি তিনতলা বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন, চার তলা ভিত্তির ওপর চার তলার একটি মেডিকেল ও ডে-কেয়ার সেন্টার এবং একটি ৫ তলা ভিত্তির ওপর ৫ তলা বিশিষ্ট একটি স্টাফ স্কুল ও কলেজ ভবন এবং উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের জন্য একটি ৪ তলা ভিত্তি বিশিষ্ট ৪ তলার ভবন নির্মাণ করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

“এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-উপরিস্থ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি হাওর অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

মুস্তফা কামাল জানান, প্রায় ৩০ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ের মোট ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪ হাজার ৮৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৪ হাজার ৮৪০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৫৩৯ কোটি টাকা সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো

>> ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮০৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

>> ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প। এর ব্যয় প্রায় ৩৪৬ কোটি টাকা।

>> ‘বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৫৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

>> ‘চা বাগান কর্মীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ৬২ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

>> ‘সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প। এর ব্যয় ২ হাজার ৩০৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

>> ‘উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসসমূহের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ৭৪৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

>> ‘বিনিয়োগ বোর্ড ভবন (বর্তমানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা) ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৮ কোটি টাকা।

>> ‘১১টি মডার্ণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফিন্স স্টেশন স্থাপন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

>> ‘মাদারীপুরে সরকারি অফিস সমূহের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা।

>> ‘নির্বাচিত ০৯টি সরকারি কলেজের উন্নয়ন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

>> ‘শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়, সদর গোপালগঞ্জ ও শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়, সুত্রাপুর, ঢাকা এর অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৭১ কোটি টাকা।

>> ‘চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে ১টি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

>> ‘শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, মান্দা’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

>> ‘ভোলা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

>> ‘র‌্যাব ফোর্সেস এর অভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্প। এতে ব্যয় করা হবে প্রায় ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

>> ‘জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বিনির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৬৩ কোটি টাকা।

>> ‘ডিপিডিসি‘র আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

>> ‘সোনাগাজী ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

>> ‘বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

>> ‘চট্টগ্রামের ৩৬টি পরিত্যাক্ত বাড়িতে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারিদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার ১৩২ কোটি টাকা।

>> ‘আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ বিশেষ ধরনের পন্টুন স্থাপন’ প্রকল্প। এর ব্যয় প্রায় ১৬২ কোটি টাকা।

>> ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

>> ‘বাঙ্গালী-করতোয়া-ফুলজোর-হুড়াসাগর নদী সিস্টেম ড্রেজিং/পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা।

>> ‘৬৪টি জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

>> ‘বৃহত্তর নোয়াখালী (নোয়াখালী-ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৭৪০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

>> ‘বৃহত্তর রাজশাহী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ)’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং

>> ‘ইমারজেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স’ প্রকল্প। এতে ব্যয় করা হবে ৩৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ প্রকল্পটির জন্য বিশ্ব ব্যাংক অনুদান হিসেবে ৩৩৪ কোটি টাকা দেবে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ