আমি রেহনুমা হতে চাই

আনমোনা প্রিয়দর্শীনীঃ
রেহনুমা আহমেদ। আমার শিক্ষক, কিন্তু তার ছাত্র হিসেবে আমি একবারের জন্য গর্ববোধ করি না। বরং মানুষটার কথা ভাবলে আমার ভেতরটা অপরাধবোধে দুমড়ে মুচড়ে যায়।

জাবিতে ভর্তির পর দুম করে কিছু শিক্ষকের প্রেমে পড়ে গেছিলাম। এই প্রেম, ভালবাসা কেমন যেন অপার্থিব ছিল। মানুষগুলোর একটা ছাঁয়া আমার মনে গেঁথে গেছিল আজীবনের জন্য। ছাঁয়াগুলো আমাকে নতুন স্বপ্ন দেখাতো। ছাত্র-শিক্ষকের ক্ষমতা সম্পর্ককে ভেঙে ফেলে আস্হার বন্ধন গড়ার স্বপ্ন, কোন এক ক্লান্ত দুপুরের সবটুকু ঘুম উড়িয়ে দেয়ার মতো মোহাচ্ছন্ন এক লেকচার দেবার স্বপ্ন, চারপাশের জগতকে নতুন চোখে দেখাবার স্বপ্ন; ক্লাসের শেষ বেঞ্চটিতে বসা নাম না জানা দূর গ্রামের ছাত্রটিকে মনোবল দেবার স্বপ্ন, রাষ্ট্রের পেটোয়া বাহিনীর সামনে মেরুদন্ড সোজা করে দাড়িঁয়ে ছাত্র বাঁচানোর স্বপ্ন; হতাশা, রাগ, অভিমানী যেই চোখগুলো স্বপ্ন দেখতে ভুলে যায় সেই চোখে স্বপ্ন দেবার স্বপ্ন। কিন্তু আমার সেই সাহস কই যে এমন স্বপ্ন ছুঁই।

আমার শিক্ষক যখন বুক চেতিয়ে শহীদ মিনার, রাস্তায় দাঁড়ায় আমার মতো হাজার ছাত্র, জনতার অধিকারের হিসেব বুঝে নিতে; আমার শিক্ষক যখন আমার জবান, আমার কলমকে মুক্ত করতে আওয়াজ তোলে আমার শব্দ তখন কতোটুকু তাঁদের আওয়াজে মেশে? আমি সর্তক কদম ফেলি, মেপে কথা বলি। আমি তাই কখোনই আমার শিক্ষকের ছাত্র হয়ে উঠতে পারি না। আমি গর্ব করতে পারি না, আমি নিজের কাছে নিজে কুকঁড়ে যাই। আমি স্বপ্ন দেখা বাদ দেই। কারণ আমি শুধু পেশার বিচারে শিক্ষক হতে চাই না।

আমি রেহনুমা হতে চাই, হতে চাই তাঁর যোগ্য উত্তরসূরির মতো। যেদিন পারবো ছাত্র বাঁচাতে পুলিশ ভ্যানে অকপটে উঠে যেতে, যেদিন পারবো শুধু জীবনসঙ্গী নয় যেকোন ন্যায় বিচার হারানো মানুষের জন্য প্ল্যাকার্ড ধরতে; যেদিন পারবো নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও না সরতে সেদিন গর্ব করবো রেহনুমাদের ছাত্র হবার। সেইদিন ময়দানে দেখা হবে আমার বন্ধু, প্রাণপ্রিয় শিক্ষক।