রামু ট্র্যাজেডিঃ কেন এই নৃশংসতা! কেন এই বর্বরতা!

শাহরিয়ার ওয়াহিদঃ
২৯ সেপ্টেম্বর।এতদঅঞ্চলের মানুষ,মানবতা তথা সভ্যতার জন্য একটি অন্ধকারময় দিন।এ যেন রৌদ্র উজ্জ্বল দিনে হঠাৎ কাল মেঘের ঘনঘঠা,যুগেযুগে বিন্দু বিন্দু করে গড়ে উঠা সভ্যতা যেন হঠাৎ থমকে গেল এখানে।বিগত শত শত বছর ধরে আঁধারের বিপরীতে মানবজাতি ধর্ম,সংস্কৃতি,জ্ঞানের যে লড়াই চালিয়ে আসছিল তা যেন মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।

কিন্তু কেন এই নৃশংসতা! কেন এই বর্বরতা!

এতদঅঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ ইসলাম ধর্মের অনুসারী।বর্বরতায় অংশ নেয়া সকলে মুসলমান।আজ বিবেকের কাছে প্রশ্ন জাগে,তবে কি মসজিদ-মক্তব-মাদ্রাসা বা বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো আমাদের ভূল শিক্ষা দিচ্ছে?

মসজিদ-মক্তব-মাদ্রাসায় কি সূরা কাহ্ফ এর ২৯ নং আয়াত নিয়ে কখনো আলোচনা করা হয়নি!বুঝিয়ে দেয়া হয়নি এর মর্মার্থ!যেখানে মহান রাব্বুল আলামীন স্পষ্ট করে বলেছেন,”হে নবী,এ সত্য জীবন ব্যবস্থা তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে এসেছে।সুতারাং যার ইচ্ছা সে এর উপর ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে তা অস্বীকার করুক।”
এছাড়াও অন্যত্র আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-আমি তাকে চলার পথ দিয়েছি,সে চাইলে আল্লাহর কৃতজ্ঞ হবে,না হয় কাফির হয়ে যাবে।(সূরা দাহর-৩)।

আলোর পথের যাত্রী,পরিবার,সমাজ তথা রাষ্ট্র কে আজ ভাবতে হবে নতুন করে।এগিয়ে আসতে হবে পুরো সমাজকে একটি নতুন মঞ্চে।এমন কালো আঁধারের বিপরীতে লড়াইয়ে সবাইকে সংকীর্ণতা ছেড়ে একতাবদ্ধ হতে হবে।বেরিয়ে আসতে হবে জরাজীর্ণ পুরনো সমাজ ব্যবস্থার ভেতর থেকে।

রাষ্ট্র কে আজ নিশ্চিত করতে হবে সে কোন পথে হাঠছে।প্রত্যেক মসজিদ,মন্দির,গীর্জা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান মানবজাতিকে সভ্যতার আলোকিত পথে হাঁটানোর যে মর্ম বাণী ধারণ করে রেখেছে,তাই যেন প্রকাশ করে,লালন করে,চর্চা করে।মানব সভ্যতার সুষ্ঠু বিকাশে পরিচালিত করতে হবে এসব প্রতিষ্ঠান।প্রয়োজনে সংশোধিত হোক সংবিধান,শিক্ষা ব্যবস্থা।

নয়তো ইডিপাস এর মত বলতে হবে যে আমাকে বাঁচিয়েছে সে অভিশপ্ত হোক।যে মৃত্যুর পরিবর্তে আমাকে জীবন দিয়েছিলো-সে অভিশপ্ত হোক।

বলতে হবে-আমার নাম কি?পিতৃঘাতী।আমার নাম কি?মাতার স্বামী। দেবতার সম্পর্কহীন এক লজ্জিত নির্যাতিত মানুষ।

সভ্যতার সংঘাত থাকবে । আলাদিনের আশ্চর্য্য প্রদীপের ছোঁয়ায় একে নিমিষেই মুছে দেয়া যাবেনা।