নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গলা কেটে হত্যা

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের ভদন্ত ধর্মবংশ ভিক্ষুকে (মংশৈউ চাককে-৭৫) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার ১৪ মে দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার বাইশারি ইউনিয়নের চাকপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার ১৪ মে ভোরে ওই মন্দিরের পাশের একটি ঘরে ওই ভিক্ষুকে খাবার দিতে গিয়ে তার গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে বাইশারি তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। দুই বছর ধরে ভিক্ষু ধর্মবংশ মন্দিরের পাশে উপর-চাকপাড়ার একটি খামার বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন।

বাইশারি তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। কারা কেন তাকে হত্যা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সোলতান উদ্দিন আহসান বলেন, ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশের গলা প্রায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। ঘটাস্থলে এখন অতিরিক্ত বিজিবি ও পুলিশ সদস্য টহল দিচ্ছে।

index
হত্যাকান্ডের শিকার ভদন্ত ধর্মবংশ ভিক্ষু এই বিহারে থাকতেন

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম শাহেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত বৌদ্ধ ভিক্ষুর ছেলে অংছাথোয়াই চাক বলেন, তার পিতা দীর্ঘ দুই বছর ধরে ধর্মগুরু হিসেবে অবস্থান করছিলেন। তার সাথে কারো ঝগড়া বিবেদ ছিলো না।

index
ধর্মবংশ ভিক্ষুর মৃতদেহ এভাবে পড়ে থাকে

উপজাতীয় নেতা নিউলামং মার্মা বলেন, উক্ত ঘটনায় উপজাতীয় লোকজন সহ বাকী ধর্মীয় গুরুর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ পার্বত্য এলাকায় এর আগে এ ধরনের ঘটনা আর সংঘটিত হয়নি।
বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গলা কেটে হত্যার খবর পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি সহ অন্যান্যরা এলাকায় ছুটে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছেন।

শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা রেহায় পাবে না। তাদেরকে খুঁজে বের করে অবশ্যই সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।