আমাদের বিদ্যালয় গুলোকে আরো ভাল করতে হবে

২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ১১ মে প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশের সামগ্রিক ফলাফল ভাল হয়েছে এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই খবর নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক। তবে এটা মফস্বলের বিদ্যালয় গুলোর জন্য প্রযোজ্য নয়। প্রকাশিত এসএসসির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো পাশের হার এবং জিপিএ দুটোতেই অনেক পিছিয়ে আছে। হয়তো হাতেগোনা কিছু বিদ্যালয় ব্যতিক্রম কিছু করতে পেরেছে।

এই বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষাবিদরা গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয় গুলোতে অপর্যাপ্ত শিক্ষক, ভালো শিক্ষকের অভাব এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ গুলোকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব সমস্যা গুলোকে অস্বীকার করা যাবে না। তবে আরো কিছু সমস্যা আছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিঠি গুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনা, সম্মানীত শিক্ষকদের দলাদলি, কোন্দল, প্রতিহিংসা পরায়ণতা, প্রাইভেট বাণিজ্য, ইত্যাদি সমস্যার কারণে আমাদের গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফলাফল লাভ করতে পারছেনা। গ্রামাঞ্চলে মেধাবী শিক্ষার্থী নেই এমন তো নয়, তবে মেধা বিকাশের উপযুক্ত ক্ষেত্রের প্রয়োজন আছে। মেধা বিকাশের জন্য বিদ্যালয় এবং পরিবারে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা জরুরী।

অনেক বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। তার উপরে জুনিয়র শিক্ষকদের উপর কতিপয় প্রধান শিক্ষকের স্বৈরাচারী আচরণ এবং মানসিক নিপীড়নের খবরও আমরা পাই। এসব সমস্যা থেকে বিদ্যালয় গুলোকে বের করে আনতে হবে।

আমাদের রামুর শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে একথা এখন আর কেউ অস্বীকার করেননা। আমরা জানি যে, এক সময় কক্সবাজার (মহকুমায়) জেলায় রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সর্বোচ্চ ফলাফল করত। শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠ তার এই ঐতিহ্য এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। এর দায় ভার কে নেবে ?

২০১৬ সারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রামুর ১৬ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫ টি বিদ্যালয় থেকে কোন শিক্ষার্থী জিপিএ- ৫ অর্জন করতে পারেনি। এই ৫ বিদ্যালয় থেকে মোট ২৫৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে কেউ যে জিপিএ- ৫ পাওয়ার মত ছিল না তাও একাধারে বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমাদের দুর্বলতা এবং অক্ষমতা কোথায় তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।

রামু উপজেলার ১৬ টি বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ ১০৮৩ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাধারণ এবং কারিগরি মিলে মাত্র ৫৯ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জনে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোন কারণ নেই। আমাদের আরো ভাল করতে হবে। আর এই চেষ্টায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং জিপিএ- ৫ প্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীদের আমাদের রামু ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। রামু উপজেলায় সর্বোচ্চ এবং শতভাগ পাশের হার অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়কেও অভিনন্দন জানাই।