সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের দাবি

অনলাইন ডেস্কঃ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে আইন সংস্কারের পাশাপাশি দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ‘নির্বাচনকালে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে আইনের সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি তুলে ধরেন নির্মূল কমিটির নেতারা।

সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, “বিদ্যমান ক্ষতিপূরণ আইনের ব্যপক সংস্কার দরকার। এ ধরনের ঘটনায় যতদিন পর্যন্ত অপরাধীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা না যাবে, ততদিন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সন্ত্রাস ঘটতেই থাকবে।”

‘ভোটের রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে’ মন্তব্য করে আসন্ন নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন প্রনয়ন, কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিকতার চর্চা আমাদের সমাজ, রাষ্ট্রে অনুপস্থিত। বিরোধী দলে তো নেইই, আমি মনে করি শাসক দলেও সেটা অনেকাংশে অনুপস্থিত।

“আমরা এই সরকারকে আনার জন্য রাস্তায় ছিলাম। আমরা এই সরকারকে আনার জন্য প্রাণপাত করেছি। এই সরকার আমাদের অধিকাংশ দাবি মানেনি। মেনেছে তাদের, যারা প্রতি পদে পদে ক্ষমতায় আসার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। আমি একথা বলছি, দায়িত্ব নিয়ে বলছি।”

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা-সন্ত্রাস দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুনতাসীর মামুন।

মানবাধিকার কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এদের কোনো অধিকার নেই, কোনো ক্ষমতা নেই। আসলে এই সংস্থা রাখার দরকারই নেই।”

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও জাতীয় কমিশন গঠনের প্রস্তাবকে সমর্থন করে আলোচনা সভায় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, “দেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ যদি সংখ্যালঘু হয়ে থাকে, ১৬ কোটি জনসংখ্যার হিসেবে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হলো ১ কোটি ৬০ লাখ। তাদের সুরক্ষা দেওয়া, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যেকোনো সরকারের দায়িত্ব, সর্বোপরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

“এই সরকারের আমলে সংখ্যালঘু মানুষদের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পেরেছি, তা হয়ত বলতে পারব না। কিন্তু এই সরকারের বিকল্প কী আছে, সেটা কি কেউ বলতে পারছে?”

নির্মূল কমিটির আইন সহায়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ডা. উত্তম বড়ুয়া ও নির্মূল কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আইন সম্পাদক আইনজীবী নাসির মিয়া।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আইন সম্পাদক নাদিয়া চৌধুরী।