নির্বাচনকালীন সরকারে কোনো টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকবেন না : কাদের

অনলাইন ডেস্কঃ
নির্বাচনকালীন সরকারে কোনো টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারে বাইরের কেউ আসবে না। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। টেকনোক্র্যাট কেউ আসবে না, আকারটা ছোট হবে।’

‘তবে জাতীয় পার্টি তাদের দু’একজন আরও অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছে, অনুরোধ করেছে। সেটাও প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, তিনি কতটা বিবেচনা করবেন- সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এগুলো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে’ -বলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

অক্টোবরের কবে নাগাদ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘নাগাদটা এখন বলব না। অক্টোবরে হবে, হয়তো মাঝামাঝি।’

আকারটা কেমন ছোট হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গতবার যে রকম সেই রকমই কাছাকাছি হবে।’

আওয়ামী লীগ নির্বাচন কি জোট করে করবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে। বিএনপি যদি আসে তাহলে জাতীয় পার্টির সাথে আসন বন্টন, সমঝোতা এসব বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সবকিছু নির্ভর করছে মেরুকরণ কীভাবে হবে, সেভাবেই অ্যালাইন্সের সমীকরণ হবে।’

জোটগতভাবে নির্বাচন করলে শরীকদের জন্য ৬৫-৭০টি আসন ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এ কে এম শামীম ওসমানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান- এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের তালিকা শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ জানে না।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কাউকে মনোনয়ন দেইনি, তবে যাদের অবস্থা ভালো- এ রকম অনেককে বলা হয়েছে। আমাদের লিডার আভাস-ইঙ্গিত দিয়েছেন, কাউকে মনোনয়ন… একেবারে শিওর… এ রকম কোনো আশ্বাস দেয়া হয়নি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬০-৭০ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছে। অক্টোবরে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে নতুন মুখ আসছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘পুরাতন যত বাদ যাবে সেখানে নতুন আসবে।’

সম্প্রতি দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে শোকজের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবন্ধ, নির্বাচনের জন্য অনেকেরই আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা যেন কেউ করতে না পারে- এ ব্যাপারে নিষেধ আছে ও কড়াকড়ি আছে, যে কারণে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা রাজশাহী, দিনাজপুর ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হয়েছে। ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। যারা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এমপিদের, তাদের কড়া ভাষায় শোকজ করা হয়েছে।’

‘আবার যাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তাদের বলা হয়েছে দলীয়-নেতাকর্মীদের এত ক্ষোভ কেন? দুই পক্ষকেই চিঠি দেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে হবে। সবদিক বিবেচনা করেই এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া জনগণ ভোট হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আষাঢ়ের তর্জন-গর্জনই সার। ১০ বছরে হয় নাই দুই মাসে হবে। পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।’

বিএনপি কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘কোন হাসপাতাল সেটা তো বিষয় না। আসলে আপত্তিটা হচ্ছে বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চাইতে অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে, এটাকে ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করতে চাইছে। তারা নিজেরা ঘরেই ঐক্যবদ্ধ নয়, দেশ ঐক্য করবে কীভাবে? সাম্প্রদায়িক শক্তি নিয়ে তারা ঐক্য করবে? ‘জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক’ ঐক্য নামটি সবচেয়ে মানানসই হবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচনী সফরে তিনি আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে পটুয়াখালী ও বরগুনা এবং ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সড়ক পথে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যাবেন।

সূত্রঃ জাগোনিউজ